আরব আমিররাতে উদ্বোধন হল ইজরায়েলি দূতাবাস

স্বতঃকণ্ঠ আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মিশর এবং জর্ডানের পর এবার আরব বিশ্বের রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতিষ্ঠিত হল ইজরায়েলি দূতবাস। এর আগে ১৯৮০ সালে মিশরে এবং ১৯৯৪ সালে জর্ডানে ইজরায়েলের দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার ২৯ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতে দূতাবাস উদ্বোধনকালে ইজরালের নবগঠিত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ার লাপিড বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বাড়ি, মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে তাড়া কোথাও যাবেন না।

উপসাগরীয় কোন রাষ্ট্রে এটিই প্রথম ইজরায়েলি দূতাবাস। গত বছরে আগস্ট মাসে ইজরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো একটি চুক্তি করে।

এই চুক্তির পর ফিলিস্তিনিরা দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিল, ইজরায়েলের সাথে আরব রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ফিলিস্তিনিদের পিঠে ছুরিকাঘাতের সমান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানি আবুধাবিতে ইজরায়েলি দূতাবাস উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ইয়ার লাপিড একটি টুইট বার্তায় বলেন, আজ আমরা যা খুলছি তা কেবল একটি দূতাবাস নয়, সহযোগিতা কেন্দ্রও। এটি এমন একটি জায়গা যা আমাদের একসাথে চিন্তা করার, একসাথে বিকশিত হওয়ার, একসাথে বিশ্বকে পরিবর্তন করার ক্ষমতার প্রতীক।

ইয়ার লাপিডকে বহনকারী বিমান সৌদি আরবের আকাশসীমার উপর দিয়ে মঙ্গলবার ২৯ জুন আবুধাবীতে পৌছায়। সৌদি সরকার গত বছর ইজরায়েল-আরব আমিরাতের মধ্যে চলাচলকারী সকল বিমানের জন্য নিজের আকাশসীমা উন্মুক্ত করে দেয়।

বিবিসি’র খবরে বলা হয়, গাজায় গত মে মাসে ইজরায়েলি হামলায় ৬৬ শিশু সহ ২৫৬ জন ফিলিস্থিনের মৃত্যু নিয়ে আরব বিশ্বের জনরোষের রেশ না কাটতেই ইজরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর অনুষ্ঠিত হল।

বিবিসি’র বাণিজ্য বিষয়ক সংবাদদাতা সামির হাশমি বলেছেন, লাপিডের দুই দিনের এই সফর ইজরায়েল এবং আরব বিশ্বের জন্য একটি ঐতিহাসিক মূহুর্ত। কারন ইয়ার লাপিডই প্রথম ইজরায়েলের মন্ত্রী যিনি রাষ্ট্রীয় কোন সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেলেন। এই সফরের গুরুত্ব যে শুধু প্রতীকী তা নয়, কারন সফরটি হচ্ছে, গত হামাস ও ইজরায়েলের সংঘাতের পরের মাসেই। ফলে বোঝা যায় যে, গাজায় ইজরায়েলি হামলার ঘটনায় তাদের সম্পর্কের মধ্যে কোন প্রভাব ফেলেনি।

অনেক বিশ্লেষক বলেছেন, আমিরাত এর শাসকরা পরিস্কার ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইজরায়েলের সংগে এই নতুন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় আচর ফেলতে তারা রাজি নয়।

দুবাই এর রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুল খালেক আব্দুল্লাও মনে করেন, মে মাসের সংকট ভালোভাবেই কাটিয়ে উঠতে পেরেছে দুই দেশই।

তিনি বলেন, প্রথম পরীক্ষায় সম্পর্ক উত্তির্ণ হয়েছে, মনে হয় না এটি আর উলটো দিকে যাবে। আরব আমিরাত দুটি সমান্তরাল পথ বেছে নিয়েছে- প্রথমত ইজরায়লের সাথে সম্পর্ক, দ্বিতীয়ত স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে সমর্থন। একটির সংগে আরেকটিকে জড়াতে চাচ্ছে না তারা।

ফিলিস্তিন ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম লাপিডের এই সফরের বিশ্লেষনে বলেন, আরব শাসকরা বিশ্বাস ঘতকতা না করলে ফিলিস্তিনের ভূমি জবর দখলে করে প্রতিষ্ঠিত ইজরায়েল অনেক আগেই ধ্বংশ হয়ে যেত। ফিলিস্তিনের জনগণ যখন তাদের মাতৃভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য জীবন দিয়ে যাচ্ছে এবং ইজরায়েল ফিলিস্তিনের জনগণের উপর ভয়াবহ গণহত্যা চালাচ্ছে তখনও ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে সেই ভয়াবহ বিশ্বাস ঘাতকতা অব্যাহত রেখেছে আরব শাসকরা।

সূত্রঃ বিবিসি।

আরও পড়ুনঃ বিচার বিভাগের প্রধান অতি-রক্ষণশীল ইব্রাহিম রঈসি ইরানের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন