ইকুয়েডরকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকারর সেমিফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা

স্বতঃকন্ঠ বার্তাকক্ষঃ লিওনেল মেসি একটি ফ্রি কিক করেন এবং দুটি গোল করতে সহায়তা করে রবিবার ইকুয়েডরকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে কলম্বিয়ার বিপক্ষে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা।

মেসি প্রথমার্ধে একটি সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন কিন্তু হাফ টাইমের পাঁচ মিনিট আগে রডরিগো ডি পলকে সেট আপ করেন এবং তারপরে শেষ থেকে পাঁচ মিনিট লাউতারো মার্টিনেজের হয়ে একই কাজ করে আর্জেন্টিনাকে প্রাপ্য জয় এনে দেন।

এটি আর্জেন্টিনার হয়ে তার ৭৬তম গোল, যা তাকে পেলের দক্ষিণ আমেরিকার রেকর্ডের মধ্যে নিয়ে যায়।

মেসি বলেন, “আমি সবসময় বলে এসেছি যে ব্যক্তিগত পুরস্কার গৌণ, আমরা এখানে অন্য কিছুর জন্য এসেছি।” “আমাদের একটি উদ্দেশ্য আছে এবং আমরা সে দিকে মনোনিবেশ করছি।”

“এটি একটি কঠিন ম্যাচ ছিল, আমরা জানি তারা কতটা কঠিন প্রতিপক্ষ হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছি।”

আর্জেন্টিনা খেলায় আসা ১৭ খেলায় অপরাজেয় ছিল এবং তাদের ফলাফলকে তাদের চেয়ে আগে সন্দেহের বাইরে রাখা উচিত ছিল।

মার্টিনেজ এবং জার্মান পেজ্জেলা দুজনেই শুরুর ২০ মিনিটে কাছাকাছি আসেন এবং হার্নান গ্যালিন্ডেজ নিকোলাস গঞ্জালেজের একটি দুর্দান্ত ডাবল সেভ করেন এবং স্কোর ১-০ করেন।

আরও আশ্চর্যজনকভাবে, মেসি খেলার সেরা সুযোগটি মিস করেছিলেন যখন তার শর্টটি কিপারের উপর দিয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু তার শটটি পোস্ট থেকে ফিরে আসতে দেখেছিলেন।

৪০তম মিনিটে আর হতাশায় পুড়তে হয়নি আলবিসেলেস্তেদের। মেসির কাছ থেকে বল পেয়ে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন দে পল। জাতীয় দলের জার্সিতে এটাই তার প্রথম গোল।

প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতেন নিকোলাস গঞ্জালেজ। মেসির ফ্রি-কিকে তার হেড রুখে দেন ইকুয়েডরের গোলরক্ষক হার্নান গালিনদেস। গঞ্জালেজের ফিরতি শটও ফিরিয়ে দেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক ভালো শুরু পায় ইকুয়েডর। ৫৮তম মিনিটে ভ্যালেন্সিয়ার শট ফাঁকি দিতে পারেননি আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ছয় মিনিট পর অল্পের জন্য নিজেদের জালে বল পাঠিয়ে দেননি গঞ্জালেজ।

৭৪তম মিনিটে দে পলের পাসে মেসি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি শট। ছয় মিনিট পর পাল্টা-আক্রমণে বদলি গঞ্জালো প্লাতার প্রচেষ্টা ফিরিয়ে দেন মার্তিনেজ।

৮৪তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন বদলি আনহেল দি মারিয়া। তিনি খুঁজে নেন মেসিকে। তার পাসে বাকিটা অনায়াসে সারেন লাউতারো।

দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ডি-বক্সের সামান্য বাইরে থেকে চোখ ধাঁধানো ফ্রি-কিকে গোল করেন মেসি। দি মারিয়া ফাউল হওয়ায় সেট-পিসটি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তাকে ফেলে দেওয়ায় শুরুতে হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল পিয়েরো হিনকাপিকে। পরে ভিএআরের সাহায্যে লাল কার্ড দেখানো হয় তাকে।

আন্ডারডগ ইকুয়েডর তাদের শেষ ছয় খেলায় কোন জয় ছাড়াই ম্যাচে এসেছিল তবে তারা ১৯৯৩ সালের পর তাদের প্রথম কোপা আমেরিকা জয় কামনা কারী দলের বিপক্ষে গোল করার সুযোগ পেয়েছিল।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী বুধবার কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ব্রাসিলিয়ার মানে গারিঞ্চা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায়।

আরও পড়ুনঃ চিলিকে ১০ জন নিয়ে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠল ব্রাজিল

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন