ইসলামী শরিয়া মোতাবেক সেহেরিতে ডাকার বিধান

স্টাফ রিপরতারঃ সেহেরিতে অপরজনকে ডাকা এবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এর ক্ষেত্রেও ইসলামী শরীয়া মোতাবেক কিছু নির্দিষ্ট বিষয়াবলী খেয়াল রাখতে হবে।

পূর্বে কাফেলাগণ সেহেরির আগে সকলকে ঢেকে দেয়ার প্রচলন ছিল তবে বর্তমানে এই প্রচলন নেই বললেই চলে।

বর্তমানে মসজিদের মাইকে সকলকে ঘুম থেকে উঠে সেহেরী করার জন্য ডাক দেয়া হয়। তবে ইসলাম অনুযায়ী এটি কতটুকু যুক্তিযুক্ত !?

উদ্দেশ্য যদি হয় শুধু ঘুমন্ত মানুষকে সেহরি করার জন্য ডেকে দেয়া তবে সেটি ভুল হবেনা। তবে কিছু কিছু মসজিদের সেহেরির আগ দিয়ে জিকির-আজগার সহ গজল ইত্যাদি’ প্রচার চালানো হয়, এটি ইসলামী শরিয়ার বিরুদ্ধে কেননা দীর্ঘ সময় ধরে মাইক বাজানো হলে এটি অনেক মানুষের বিরক্তির কারণ হতে পারে শুধু তাই নয় এতে অনেক মানুষের অনেক রকম সমস্যা থাকতে পারে।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন , “যে ব্যক্তি আমাদের দিনের ভেতরে এমন কিছু প্রচলন করবে যেটা আমরা নির্দেশ করিনি সেটা প্রত্যাখ্যান যোগ্য”

যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেহেরিতে ঢেকে দেয়ার কোন নির্দেশ দেননি সেহেতু সেহরির পূর্বে ডাকাডাকি যদি আমরা আযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভাবি তবে তা পরিত্যাজ্য হবে ।

রাতে এমন অনেকেই আছেন যারা অসুস্থ রোজা রাখবেন না, এমন কিছু মানুষ আছেন যারা সেহরি আগেই করে শুয়ে পড়েছেন, ছোট শিশু যারা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে এবং অমুসলিম ব্যক্তি আছে যারা একটানা মসজিদের মাইক বাজানো তে বিরক্ত হতে পারেন । এতে অনেক মানুষেরই কষ্ট হতে পারে ।

ইসলাম মানুষকে কষ্ট দিতে শেখায়নি, ইসলাম অতি সুন্দর একটি ধর্ম তবে কিছু মানুষ তাদেরও অধার্মিক আচরণের দ্বারা ইসলামকে অন্য ভাবে উপস্থাপন করে থাকেন ।

মসজিদের মাইকে দুই থেকে তিনবার ডাকা এবং সেহরির শেষ সময় এরপূর্বে সতর্কবাণী দেয়া ব্যতীত যে সকল গজল ও জিকির করা হয় একটানা তা ইসলামের শরিয়া অনুযায়ী হারাম।

ব্যক্তিগতভাবেও একজন ব্যক্তি অপর একজনকে সেহেরির সময় ডেকে দেয়া কেউ ইসলামে অনেক গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়ে থাকে। এতে ভাতৃত্বের প্রকাশ পায় ও এটি ইসলামের চোখে সৌহার্দ্য বিনিময়ের একটি অন্যতম উপায় । এটি একটি অন্যতম ইবাদত।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন