ঈশ্বরদীর শোভন ক্লিনিকে সিজারের পরে এক প্রসূতি নারীর মৃত্যু কর্তৃপক্ষসহ চিকিৎসক উধাও

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ শনিবার ৭ মার্চ সন্ধ্যায় ঈশ্বরদীর বকুলের মোড়ে অবস্থিত শোভন ক্লিনিকে শিমলা দাস উমা (২০) নামে এক গর্ভবতি নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু্র খবর পাওয়া গেছে।

নিহত শিমলা দাস উমা (২০) নাটোর জেলা লালপুর থানার পাটিকাবাড়ি গ্রামের বিধান দাসের স্ত্রী। প্রসুতির বাবার বাড়ি পাবনা জেলা নগরবাড়ি এলাকায়।

প্রসুতির মৃত্যুর কারন বা এ সম্পর্কে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করে ক্লিনিকের কোন ধরনের কোন কর্মকর্তা কর্মচারিকে পাওয়া যায়নি। সিজার সংশ্লিষ্ঠ ডাক্তার, নার্স বা অজ্ঞানের ডাক্তার কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সন্ধ্যার পর শোভন ক্লিনিকে যেয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার কিছু পুর্বে শিমলা দাস (উমা) (২০) নামে এক রুগিকে সিজার করার সময় রুগিটি মারা যায়।

রোগীর সিজার কাজে নিয়োজিত ছিলেন ডাঃ মাসুমা আঞ্জুম ডানা ও তার স্বামি ডাঃ শফিকুল ইসলাম শামিম রুগি অজ্ঞান করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

আরও জানা যায়, একজন রুগির সিজার করার পূর্বের আনুসাঙ্গিক কাজ শেষ না করেই পুর্ব থেকে উচ্চ রাক্তচাপ থাকা উমাকে সিজারের জন্য ঢোকান হয়। দ্বায়িত্বরত চিকিৎসকের অন্যত্র জরুরি কাজ থাকায় দ্রততার সঙ্গে সিজার করতে গিয়েই উচ্চ রক্তচাপ সম্পন্ন একজন প্রসুতির অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

ঈশ্বরদি থানার এস আই আলমগীর বলেন, আমরা শোভন ক্লিনিকে যেয়ে কর্তব্যরত কাউকে না পেয়ে মৃতদেহ থানায় নিয়ে এসেছি। এখনও রোগীর কোন নিকট আত্মীয় আসেনি। স্বজনরা আসলে তাদের অভিযোগ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসুতির মৃত্যুর পর ক্লিনিকে প্রসুতির সৎ মাকে দেখা গেলেও পরবর্তিতে নবজাতক শিশু বা সৎ মাকে আর পাওয়া যায় নাই। প্রসূতির শ্বশুড়বাড়ির কাউকেও দেখা যায়নি।

মৃত প্রসূতির স্বামি বিধান দাস ঢাকায় স্বল্প বেতনের কোন চাকরি করে বলে জানা যায়। বিধান দাস ঢাকা থেকে ঈশ্বরদীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

এলাকার সাধারন মানুষের বক্তব্য থেকে এ ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বরত চিকিৎসক এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আত্মগোপন করেছে। প্রসুতির এই অকাল মৃত্যু জনমনে নানা প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন