খোলা বাজারে ৩০ টাকা কেজি চাল ও ১৮ টাকা কেজি আটা বিক্রী হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে মেহনতী জনতা

রফিকুল ইসলাম ফরিদঃ “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে অর্জিত স্বাধীনতা আর প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ: দেশ থেকে ক্ষুধা হয়েছে নিরুদ্দেশ”। এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সরকার সারাদেশে চালু করেছেন গরীব-দু:খীও মেহনতী জনতার জন্য ওএমএস অর্থাৎ খোলা বাজারে ডিলারদের মাধ্যমে ঝকঝকে তকতকে উন্নতমানের দেশী সুস্বাদু চাল ও ফুটফুটে দুধের মতো সাদা ধবধবে একেবারে মিহিদানার পরিস্কার আটা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রেরিত এ সব চাল ও আটা কিনতে প্রতিদিনই ডিলারদের দোকানের সামনে থাকে উপচে পড়া মেহনতী জনতার ভীড়। এই ভীড়কে সামাল দিতে খাদ্য অধিদপ্তরের দক্ষ লোকবল সুষ্ঠভাবে চাল ও আটা বিক্রির সুব্যবস্থা করেছেন। ফলে চালের বাজার তো নিয়ন্ত্রণ হয়েছেই আবার মাত্র ৩০ টাকা কেজি চাল ও ১৮ টাকা কেজি দরের মিহি আটা কেনার লোকের অভাব নেই। এই অভাবকে প্রতিরোধ করতে সারা দেশের ন্যায় পাবনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইকবাল বাহার চৌধুরীর নেতৃত্বে পাবনা জেলার সবত্রই চাল ও আটা বিক্রির হিড়িক পড়ে গেছে।

পাবনা পৌর এলাকায় তাই ১৩টি (তের) ওএমএস’র সৎ ও যোগ্য ডিলারের মাধ্যমে চাল বিক্রি কার্যক্রম চলছে সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবেই কোন রকম ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে সারাদেশে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চালু হয়েছে বিশেষ ওএমএস কর্মসূচী। এই বিশেষ ওএমএস এর মাধ্যমে একজন ক্রেতা (কার্ড ধারী) সর্ব্বোচ্চ ৩০ কেজি উন্নতমানের ফ্রেশ চাল (ধান, চিটা, খুদ, পাথর ছাড়া) ক্রয় করতে পারবেন নির্ধারিত ডিলারের কাছ থেকে। এই ৩০ কেজি চালের দাম পড়বে মাত্র ৩০০ টাকা। অর্থাৎ ১০ টাকা কেজি।

এটা শেখ হাসিনা সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ যা জনগনকে এই করোনাকালীন সময় অনেক উপকার করবে। তাই আপামর জনগণ বিশেষ করে পাবনার মেহনতী খেটে খাওয়া গরীব-দু:খীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হাজারো হাজারো ধন্যবাদ ও প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করে তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন।

আমি নিজে গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ ওএমএসের চাল তুলেছি হেমায়েতপুর ইউপির নাজিরপুরস্থ মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম মধু ডিলারের কাছ থেকে। এ চাল ছিলো (১০ টাকা কেজি দরের) সেই সুন্দর ঝকঝকে তকতকে চাল। ছিল না সেই চালে কোন দুর্গন্ধ বা ভ্যাবসা গন্ধ কিংবা ছিলনা ভেজা। ছিল মটমটে। এতো সুন্দর চাল বিগত সরকারের আমলে আমরা পাইনি। যা পেয়েছি তা গরুর খাদ্য ছিলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী সত্যিই প্রশংসার দাবীদার।

পাবনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইকবাল বাহার চৌধুরীর নির্দেশে পাবনা পৌর এলাকায় ১৩ জন ডিলার সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে খোলা বাজারের চাল ও আটা ৩০ ও ১৮ টাকা দরে প্রতিদিনই বিক্রি করেও যাচ্ছেন। তবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইকবাল বাহার চৌধুরী ভোলা জেলায় বদলী হয়ে যাচ্ছেন বলে জানালেন ফুড অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী মতিয়ার রহমান।

পাবনা পৌর এলাকার ১৩ জন ডিলার হলেন: (১) অনন্ত বাজারের ডিলার খন্দকার রফিকুল ইসলাম হিরা (২) লাইব্রেরী বাজারের ওএমএস ডিলার মো: আওয়াল হোসেন (৩) ফজলুল হক পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের ডিলার মো: নূর হোসেন রাজীব। (৪) খান বাহাদুর শপিংমল (নিউমার্কেট এলাকায়) এর ওএমএস ডিলার মোঃ মশিউর হাসান সোহেল, (৫) রাধানগর বাজারের ওএমএস ডিলার হলেন: মোছা: সামলা বেগম (৬) সিংগা গোলা বাজার এলাকার ওএমএস ডিলার মোছা: মোমেনা বেগম (৭) ঘোষপাড়া মোড়ের ওএমএস ডিলার শেখ রাসেল আলী মাসুদ (৮) কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার ওএমএস ডিলার মো: ছমির হোসেন (৯) আরিফপুরস্থ হাজির হাটের ওএমএস ডিলার মো: বাবু বিশ্বাস (১০) পশ্চিম সাধুপাড়া জামে মসজিদের নিকট বা চামড়ার আড়তের অদূরে বা পাশের ওএমএস ডিলার মো: জাহাঙ্গীর আলম (১১) চাঁদাখার বাঁশতলা অর্থাৎ লাইব্রেরী বাজারের অদূরে অবস্থিত ওএমএস ডিলার হলেন মো: আওকাত হোসেন, (১২) স্কয়ারের মেরিল রোডের ওএমএস ডিলার মোছা: আসমা খাতুন (১৩) পাবনা বড় বাজারের অগ্রণী ব্যাংকের নিকটস্থ ওএমএস ডিলার মো: মকবুল হোসেন বাচ্চু।

এ সব ডিলারদের ৪২ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কোন ডিলার ৪টন কোন ডিলার ৩টন চাল বরাদ্দ পেয়েছেন বলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী মতিয়ার রহমান ৯ নভেম্বর সোমবার সকালে মুটোফোনের মাধ্যমে আলাপ চারিতায় এ কথা জানান।

খোলা বাজারের অর্থাৎ ওএমএসের চাল সুষ্ঠভাবে বিতরণ হচ্ছে কিনা তা তদারকীর জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইকবাল বাহার চৌধুরী মাঠে রেখেছেন বেশ কিছু দক্ষ ও সৎ তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এ সব কর্মকর্তারা হলেন- (১) সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মো: শামীম হোসেন (২) নুরপুর এলএসডির মো: হাবিবুর রহমান (৩) আটঘরিয়া এলএসডির সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মো: জাহির হোসেন (৪) নুরপুর এলএসডির সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মো: শাকিল আহমেদ (৫) ঈশ্বরদী এলএসডির সহ: উপখাদ্য পরিদর্শক স.চ.ক. মো: মামুন আল গাউস (৬) পাবনা উখালী দপ্তরের খাদ্য পরিদর্শক মো: শাহীনুর আলম।

১০ নভেম্বর মঙ্গলবার পাবনা শহরে ৬টি এলাকায় খোলা বাজারে (ওএমএস) ৩০টাকা কেজি দরের চাল ও ১৮ টাকা কেজি দরের আটা ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।

একজন ক্রেতা সর্ব্বোচ্চ ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা ক্রয় করতে পারবেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ওএমএস ডিলারদের বিক্রয় কেন্দ্রগুলো খোলা থাকে।

১০ নভেম্বর মঙ্গলবার যে সব ডিলাররা চাল ও আটা বিক্রয় করবেন তারা হলেন:(১)লাইব্রেরী বাজারের আওয়াল হোসেন (২) ফজলুল হক পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের ওএমএস ডিলার মো: নূর হোসেন রাজীব (৩) খান বাহাদুর শপিংমলের ওএমএস ডিলার মো: মশিউর হাসান সোহেল (৪) রাধানগর নতুন বাজারের ওএমএস ডিলার মোছা: সালমা বেগম (৫) সিংগা গোলা বাজার এলাকার ওএমএস ডিলার মোছা: মোমেনা বেগম (৬) ঘোষপাড়া মোড় এলাকার ওএমএস ডিলার শেখ রাসেল আলী মাসুদ।

চাঁদাখার বাঁশতলার ওএমএস ডিলার মো: আওকাত হোসেনের দোকানে ছিল উপচেপড়া ভীড়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মোঃ মামুন আর রশিদ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ওএমএস এর চাল ও আটা দেওয়ার জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন- পাবনা ডায়াবেটিক সমিতির এক্সকিউটিভ অফিসার মো: সাজেদুল ইসলাম খান সাওন, জুনিয়র ফার্মাসিস্ট মো: সাব্বির হোসেন, জুনিয়র ফার্মাসিষ্ট মো: রেজাউল করিম, স্বাস্থ্য প্রশিক্ষক মিস শ্রাবনী আক্তার, সাকান মার্কেটের সাইকেল সৌরভ, বাজিতপুর ঘাটের সাইকেল মেকার মজনু মেকার, পাথতলা চাকীবাড়ীর রবিদাস, হক সুপার মার্কেটের ক্যাবল ডিস ব্যবসায়ী মো: মোশারফ হোসেন মহরমসহ আরো অনেকে।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন