দরিদ্র, কর্মহীন,মধ্যবিত্ত্ব অসহায়দের পাশে নেই বিত্তবানরা

রংপুর প্রতিনিধিঃ কোভিড উনিশ করোনা ভাইরাসে দেশজুড়ে চলমান কঠোর লকডাউনের প্রভাবে রংপুরের দরিদ্র,কর্মহীন,মধ্যবিত্ত্ব, মানুষেরা চরম অর্থ ও খাদ্য সংকটে পড়েছে।রংপুর সিটির স্টেশন সংলগ্ন খেরবাড়ি এলাকার মানুষ বিপর্যস্ত।

জেলা উপজেলা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকা পর্যায়েও এবারে লকডাউনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। এ কারনে যানবাহন চলছে না, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ। এ অবস্থায় খেটে খাওয়া মানুষের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের হাতে টাকাও নেই।

মধ্যবিত্বের অবস্থা আরও খারাপ তারা না পারছে বলতে না পারছে কাজে যেতে। গতবছর করোনা শুরুর সময় রংপুরের সমস্ত উপজেলা সহ সিটি এলাকার দরিদ্র এলাকা গুলোয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে সহায়তার হাত বাড়ালেও এবারের চিত্র ভিন্ন।

দিন এনে দিন খাওয়া এমন মানুষ যারা কোন কাজের মধ্যে নেই তাদের পাশে দাঁড়ানোর তেমন কেউ নেই। সরকারি ভাবে যে সব বরাদ্দ আসছে,সেগুলো যে কজন পাচ্ছেন কোথায় পাচ্ছেন তা নিশ্চয়ই অপ্রতুল প্রয়োজনের তুলনায় ।

এরপর দিনেরপর দিন আবারও দুর্দশা বেড়েই চলছে বেড়েছে লকডাউন এর সময় সীমা । মধ্য বিত্ত ও নিম্ন মধ্য বিত্ত মানুষের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জেলা প্রশাসন বলছেন তারা ত্রান সহায়তা বিতরন অব্যাহত রেখেছেন।

প্রতিদিনই খাদ্য সহায়তা যাচ্ছে মানুষের জন্য বিভিন্ন এলাকায়। কঠোর লকডাউনের কারনে গ্রাম থেকে যেসব দিনমজুর শহরে এসে কাজ করতেন তারাও কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অনেকেই হোটেলে কাজ করতেন, শহরে রিক্সা চালাতেন, নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন তারা কেউই শহরে আসতে পারছে না। ফলে শ্রমজীবীরা পুরোপুরি এখন ঘরবন্দী ।

বিশেষ করে রংপুর মহানগরীর স্টেশন সংলগ্ন খেরবাড়ি এলাকার দরিদ্র মানুষ বড়ই অসহায় অবস্থায় রয়েছে। এমনকি সারাদিন ঘুরেও হাত পাতবেন এমন কাউকে খুঁজে পেতে কষ্ট হচ্ছে ভিক্ষুকদের । রংপুর জেলা হোটেল কর্মচারী সংগঠনের সভাপতি/সম্পাদক বলেন,হোটেল বন্ধ, কাজ নেই।

আবার সহযোগীতাও পাচ্ছি না কারও। এ অবস্থায় সকল হোটেল কর্মচারীরা মানবেতর দিন পার করছেন। রংপুর সিটির স্টেশন রোড এলাকায় রাস্তার পাশে চা- বিস্কুট বিক্রি করে ৫ জনের সংসার চালাতেন জনৈক যুবক ।

এবারের লকডাউনে গত ৭দিন ধরে দোকান বন্ধ থাকায় সে আধপেটা খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। আরও ১ সপ্তাহ কি করে চলবেন ভেবে কূল-কিনারা পাচ্ছেন না তিনি। রংপুর সিটির রিক্সা চালক বেলাল ,সৈয়দ, আলী, ও কদম বলেন খুবই কস্টে আছি আমরা।

ছেলে মেয়ে নিয়ে কোনমতে দিন কেটে যাচ্ছে । ভ্যানচালক কহিম মিয়া বলেন, গত বছর করোনার সময় অনেকেই খাবার দিয়েছে, টাকা দিয়েছে। এবার তো কেউ কোন সহায়তা দেয়না বাহে। অসহায় মানুষের পাশে নেই বিত্তবানরা।

জনৈক মধ্যবিত্ত বলেন গতবছর না চাইলেও অনেকে খাবার বাসায় পৌঁছে দিয়ে গেছে এবার এখনো কেউ খোঁজটাও নেননি। বাস শ্রমিক জামাল বলেন, বাস বন্ধ কাজ নেই। দিন কাটাচ্ছি চরম কষ্টে। শুনি সহায়তা পাবো কিন্তু কিছুই তো পাচ্ছি না।

রংপুর জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জানান করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে ত্রান ও টাকা বিতরনের কাজ চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এসব সরবরাহ করা হচ্ছে।

রংপুর জেলাপ্রশাসক আসিব আহসান বলেন শুরুর দিকে অনেকেই এগিয়ে এসেছিলো মানুষের সহায়তায়। নিজ দায়িত্ব বোধ থেকে বিত্তবানরা সহায়তা করে কিন্তু লম্বা সময় ধরে চলতে থাকায় সম্পদশালীরা আর এগিয়ে আসছেনা। সরকারি ভাবে নিয়মিত অসহায় কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে ত্রান সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ ৩০ মণ ওজনের বডিগার্ডকে দেখতে জানসাধারনের ভিড়

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন