দিনাজপুর ফুলবাড়ীয়াতে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর চালচলন যেনো প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরসভার প্যাড ব্যক্তিমালিকানা কম্পিউটারে রেখে কমিশনের চুক্তিতে দাপ্তরিক কাজ সাড়ছেন পৌরসভার স্টোর কিপার রতন চন্দ্র।

তিনি তৃতীয় শ্রেণির একজন কর্মচারী হলেও ঠাটেবাটে যেনো তিনি প্রথম শ্রেণির কোনো কর্মকর্তা। তার স্বেচ্ছাচারিতায় দুর্ব্যবহারসহ হয়রানীর শিকার পৌরবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি ফুলবাড়ী পৌরসভার স্টোর কিপার পদে নিয়োগ পান গত ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। পৌরসভার জনবল কম থাকায় তিনি করেন প্রত্যায়ন, নাগরিকত্ব সনদ, উত্তরাধিকার/ওয়ারিশন, আয়ের সনদ, অবিবাহিত সনদ, চারিত্রিক সনদ, সম্পর্কীয় সনদ, লাইসেন্সসহ বিবিধ সনদের
কাজ। জানেন না তিনি কম্পিউটার ব্যবহার।

নাগরিকদের সাথে দুর্ব্যবহারসহ অর্থ বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও তিনি পৌরসভার প্যাড পৌরসভার সম্মুখে থাকা ইউনিক কম্পিউটারে দিয়ে রেখেছেন।

সেখানেই সাড়ছেন সব কাজ। সেখান থেকে পান তিনি কাজের কমিশন। পৌরসভার কোনো কাজ নিয়ে কেউ আসলে রতন চন্দ্র নিজে কাজটি না করে পাঠান সেই ব্যক্তিমালিকানা কম্পিউটারের দোকানে।

কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে এলেও তিনি আজো কম্পিউটারে অ, আ লিখতে পারেন না। তাই তিনি সবধরণের কাজ বাহিরে চুক্তিভিত্তিক একটি কম্পিউটারের দোকানে করিয়ে সেখান থেকে কমিশন নেন।

আরো ভুক্তভোগী রশিদা বেগম ও সাইফুল ইসলাম বলেন, নাগরিকত্ব ও ওয়ারিশন নিতে গেলে হয়রানী করেন দায়িত্বে থাকা রতন চন্দ্র। ওয়ারিশন ডিজিটাল হয়েছে ডিজিটাল ওয়ারিশন নিতে গেলে মৃত্যু সনদ লাগে কিন্তু সেই ডিজিটাল ছোঁয়া আজো লাগেনি ফুলবাড়ী পৌরসভায়।

তবুও ওয়ারিশন নিতে গেলে মৃত্যু সনদ ছাড়া ওয়ারিশন দেন না রতন চন্দ্র। হয়রানী করান বিভিন্নভাবে। কোনো কাজ করতে হলে ইউনিক কম্পিউটারের ঠিকানা বাতায় দেন। পৌরসভার কাজ বাহিরের কম্পিউটার থেকে করতে হচ্ছে। অর্থ ছাড়া করতে চান না কোনো কাজ। এতে পৌরবাসী সুবিধার স্থানে হয়রানী শিকার হচ্ছেন এবং অর্থ খোয়াচ্ছেন।

অভিযুক্ত পৌরসভার স্টোর কিপার রতন চন্দ্র বলেন, ইউনিক কম্পিউটারে অফিসের প্যাড রাখা নেই তবে মানুষের সাময়িক সমস্যার জন্য কম্পিউটারে
তৈরি করা প্যাডে সেখান থেকে জরুরি কাজগুলো করা হয়।

কম্পিউটারের দোকানে শুধু স্মারক নম্বর লিখার জন্য ‘স্মারক নং- ফুপৌস/সাধা/ওয়ারিশ/২০২১-২০২২/’ পর্যন্ত দেয়া থাকে পরে খাতা দেখে পরবর্তী অফিসিয়াল ডিজিট বসিয়ে দেই।

মেয়র মহোদয় আমাকে কম্পিউটার শিখতে বলেছেন ইতোমধ্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছি। এখন থেকে সব কাজ পৌরসভার কম্পিউটারেই করবো।
পৌরসভার মেয়র মো. মাহমুদ আলম লিটন বলেন, পৌরসভার প্যাড কিভাবে পৌরসভার বাহিরে গেলো তা আমার জানা নাই।

স্টোর কিপার রতন চন্দ্রকে সময় দেয়া হয়েছে কম্পিউটার শেখার জন্য। তবে রতন চন্দ্র যদি নাগরিকের সাথে দুর্ব্যবহার করে থাকে এবং পৌরসভার প্যাড বাহিরে দিয়ে সেখান থেকে কাজ করান তবে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, পৌরসভার প্যাড বাহিরে রেখে কেউ দাপ্তরিক কাজ করিয়ে থাকে। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ সেই
কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারবে।

আরও পরুনঃ দিনাজপুরে বজ্রপাতে ৪ শিশু মৃত্যু

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন