পাবনার চাটমোহরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে অসহায় ভূমিহীন জরিমন বেগম

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের ভূমিহীন ও গৃহহীন বাসিন্দা মোছা: জরিমন বেগম (৬৪) স্বামী মৃত হযরত আলী।

তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ অভাব অনটন আর সীমাহিন দারিদ্রতায় সঙ্গে যুদ্ধ করে নানা রকম সমস্যায় ভুগছেন, অসহায় ও অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে কোন রকমে অতি কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি।

নেই থাকার মতো একটি ঘর ও। থাকার মতো একমাত্র বাসস্থান প্রতিবেশি মো.মনিরুল ইসলামের দেওয়া আধা শতক জায়গায় এমনকি বলা চলে (মানুষের দয়ায়) ৪খানা টিন দিয়ে ছাপরা ঘর করে অসহায়ের মত চলছে তার বসবাস।

স্বামী হযরত আলী মারা গেছেন প্রায় ২০ বছর আগে। বর্তমানে রাস্তার পাশে অন্যের জায়গায় কোন রকমে মানুষের সহযোগিতায় টিন দিয়ে ছাপরার ঘরে বসবাস করে আসছেন তিনি।

সামান্য বৃষ্টিতেই টিনের চাল দিয়ে গরগর করে পানি পড়ে তার ছোট্ট ঘরটি পানিতে ভরে যায়। বৃষ্টি তার জীবনে একটি মহা দুর্ভোগের নাম। অসহায় এই ভূমিহীন জরিমন বেগম অনেকদিন যাবত একটি ঘরের জন্য স্হানীয় চেয়ারম্যান মেম্বার সহ অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে ধরণা দিয়েছেন,

কিন্তু তাদের মাথা গোজার জন্য একটি ঘর তৈরি করে দেওয়ার জন্য কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই নি। শুনিয়েছেন আশার বানীও।

স্বামী হারা এই জরিমন বেগম একটি ঘরের আশায় নাওয়া-খাওয়া ভুলে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। জরিমন তার বাকী জীবন ভালভাবে বসবাস করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর পাওয়ার আশায় পথ চেয়ে বসে আছেন।

কিন্তু চেয়ারম্যান – মেম্বারদের নিকট প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দেওয়া একটি ঘরের আবেদন জানিয়েও তার ভাগ্যে আজও জুটলো না প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ভূমিহীন গৃহহীন মানুষের জন্য দেয়া একটি ঘর।

জরিমনকে দেওয়া আধা শতক জমির মালিক মনিরুল ইসলাম বলেন, এই বয়স্ক মহিলাটি বড়ই দু:খী ও অভাবী, স্বামী সন্তান না থাকায় তাকে দেখার কেউই ছিলোনা। সে একেবারে হত দরিদ্র গরীব মানুষ।

আমার বাড়ির পাশে ছোট ৪খানা টিন দিয়ে ছাপরা ঘর করে আমার দেয়া থাকার জায়গাতে বসবাস করে আসছেন তিনি। সে বসবাসের ব্যাবস্হা ও করে দিয়েছি আমি নিজেই।

হতদরিদ্র ও ভূমিহীন জরিমন বেগম বলেন, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পরে নি:সন্তান আমাকে দেখার কেউ ছিলো না তখন মিনারুল আলী আমাকে দয়া করে আমার থাকার জন্য আধা শতক জমি দান করেন।

সেখানে আমি ৪খানা টিন দিয়ে কোন মতে একটি ছাপরা ঘর করে আছি। আমার তেমন কোন অর্থ উপার্জন করার ব্যক্তি না থাকায় অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা পাই তা দিয়ে তিন বেলায় খাবার ও জোটে না ঠিকমত। জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে অনেক কষ্টে বেঁচে আছি।

এ পর্যন্ত সরকারি কোন ভাতা বা কোন সাহায্যে ও পায়নি আমি। সরকার যদি আমার মত অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীন হতদরিদ্র মানুষকে যে কোন একটি ভাতা বা একটি ঘর উপহার দিত তাহলে খুব উপকৃত হতাম।

জীবনের বাকি শেষ কটা দিন একটু ভালভাবে কাটাতে পারতাম। আমি সকলের সহযোগীতা কামনা করছি যদি আমার পাশে এসে কেউ দাড়াতো। এ বিষয়ে হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন বলেন,

সরকারি ঘর পাওয়ার বিভিন্ন নীতিমালা রয়েছে, জরিমন বেগম যদি সে সকল নীতিমালার মধ্যে পড়েন তাহলে অবশ্যই তিনি সে ঘর পাবেন। বর্তমানে যে
সকল অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের কোন যায়গা বা থাকার ঘর নেই সে সকল ঘর তাদের পরিবারের মাঝেই দেয়া হচ্ছে।

তবে জরিমনের বিষয়টি আমি নিজেই খোঁজ নিয়ে দেখে তার ভাতা ও ঘরের ব্যবস্হা করে দিব। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম বলেন, সরকারি ঘর বরাদ্দ থাকা সাপেক্ষে ও প্রাপ্য যোগ্য হলে তাকে সরকারি ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

এজন্য তাকে আবেদন করতে হবে। সেইসাথে তিনি যদি ভাতা পাওয়ার যোগ্য হন তাহলে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে।

আরও পরুনঃ পাবনার ঈশ্বরদী থেকে মার্ডার মামলার ১ জন আসামী আটক

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন