পাবনার ভাঙ্গুড়ায় পরকীয়ায় অভিযোগে ইমাম-গৃহবধুকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মসজিদের ইমাম ও গৃহবধুকে পরকীয় সম্পর্ক আছে মর্মে অভিযোগ তুলে তাদের গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছে।

রবিবার ২৫ জুলাই রাতে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই ইমাম ভবানীপুর জামে মসজিদে ইমামতি করত ও ওই গৃহবধু স্থানীয় বাসিন্দা জনৈক ব্যক্তির স্ত্রী।

এলাকাবাসী জানান উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের এক মসজিদের ইমাম, পাশের বাড়ির এক গৃহবধুর সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সেই সম্পের্কের কারণে রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ওই ইমাম গৃহবধুর বাড়িতে প্রবেশ করলে প্রতিবেশিরা টের পান।

বেশ কিছু প্রতিবেশি জড়ো হয়ে ওই গৃহ বধুকে ডাক দিলে তার ঘরে থাকা ইমাম পিছনের দরজা দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এলাকাবাসি তাদের ধাওয়া করে মারধর করে তাকে ও ওই গৃহবধুকে মসজিদের সামনে সড়কে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে রাতভর বেঁধে রাখে এবং শারীরিক ভাবে তাদের নির্যাতন করে।

সকালে স্থানীয় সচেতন লোকেরা এভাবে বেঁধে রাখার প্রতিবাদ করলে তাদের বাঁধন খুলে আটকে রাখা হয়। অভিযুক্ত ইমাম পার্শ্ববর্তী চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। পরে ওই ইমামকে এই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

তবে অভিযুক্ত ইমাম জানন, মসজিদের পাশের বাড়ির দু’জনকে প্রাইভেট পড়ানোর সুবাদে তাদের সাথে পরিচয় রয়েছে। ঘটনার দিন রাতে পেটে এসিডিটি ভাব হলে ওই বাড়িতে গ্যাসের ঔষধ আনার জন্য যান।

কিন্তু, স্থানীয় কিছু লোক সেটা দেখে সন্দেহ মুলক তাকে এবং ওই গৃহবধুকে আটক করেছে। একই গ্রামের বাসিন্দা ও ভাঙ্গুড়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক টুকুন বলেন, ওই নারী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় উভয়ের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে ইমামকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি ফয়সাল বিন আহসান বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরে বিষয়টি এলাকার প্রধান বর্গ বসে সমাধান করেছে। তবে এ ব্যাপারে পরবর্তীতে যে কেউ আইনি সহযোগিতা চাইলে দেওয়া হবে।

আরও পরুনঃ দেশ সেরা কনটেন্ট নির্মাতা প্রভাষক জনাব শেখ মোঃ সোহেল রানা!

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন