পাবনার রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত সকলকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতাঃ রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ানসহ সকলকে করোনা টিকার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে টেলিফোনে তিনি একথা জানিয়ে আরো বলেন, রূপপুর প্রকল্পে করোনা আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, এখন পর্যন্ত সেরকম কোন ঘটনা ঘটেনি। প্রকল্পে কর্মরতদের দিনে দুই বার প্রবেশের সময় এবং বাইরে বের হওয়ার সময় তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তাপমাত্রায় হেরফের হলে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়া প্রকল্পে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। গ্রীণসিটিতে একটি বহুতল বিশিষ্ঠ ভবন আইসলেশন সেন্টারের জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়া থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের টিম আসছে।

তাদের সহযোগিতা নিয়ে শুধু রাশিয়ান কর্মী নয়, কর্মরত সকলকে জরুরী ভিত্তিতে টিকার আওতায় আনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরো বলেন, প্রকল্পে প্রতিদিন ২৫-৩০ হাজার দেশীয় কর্মী কাজ করছেন। দেশীয় কর্মীদের সাথে পরিবারের ৬০ হাজারেরও বেশী মানুষ নির্ভরশীল।

এদের সকল প্রটেকশনের বিষয়টিকে মাথায় রেখে স্বাস্থ্য বিধি মেনে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। এদিকে বুধবার প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর রূপপুরে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় জানান, রূপপুর পারমাণবিক সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্প।

২০২৪ সালে বাণিজ্যিক ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি মাথায় রেখে স্বাস্থ্য বিধি মেনে করোনা পরিস্থিতিতে এক দিনের জন্য প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে দেশীয় বিশেষজ্ঞ এবং রাশিযান বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কার্যকর পরিকল্পনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রথমত: কর্মরত সকলের জন্য ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা, দ্বিতীয়ত: যাদের উপসর্গ বা আক্রান্ত হবে তাদের জন্য আইসলেশন, চিকিৎসা ও কেয়ারাইন্টেন নিশ্চিত এবং তৃতীয়ত: কাজ করার ক্ষেত্রে আরো কঠোর (বিধি নিষেধ) অনুশাসনের ব্যবস্থাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে পরীক্ষায় যাদের পজিটিভ হয়েছে, তারাসহ এদের সংস্পর্শে যারা ছিলো তাদেরও কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। রাশিয়ান নাগরিক আক্রান্ত প্রসংগে তিনি বলেন, আক্রান্তরা ঝুঁকিমুক্ত।

ইতোমধ্যে রাশিয়া থেকে রোসাটমের উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ টিম দেশে পৌছেছে। আগামী ১০ জুলাই শনিবার রূপপুর এলাকা সরেজমিনে যৌথভাবে পরিদর্শনের পর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর নের্তৃত্বে করণীয় বিষয়ে জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে সহযোগিতার ভিত্তিতে সকলের ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা, আইসলেশন সেন্টার এবং কঠোর অনুশাসনের বিষযে সিদ্ধান্তের পর জরুরী ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহন করা হবে।

প্রকল্পে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিদিন ২৫-৩০ হাজার মানুষ কর্মরত থাকলেও কাজের সাথে পরোক্ষভাবে আরো লক্ষাধিক মানুষ সম্পৃক্ত বলে জানান তিনি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ফাস্ট ট্রাকভুক্ত এই প্রকল্প স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রূপপুর প্রকল্পের চলমান কাজ এগিয়ে নেয়ার জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুনঃ পাবনার রুপপুর প্রকল্প এলাকায় জমির ফসল নিয়ে বিপাকে কৃষকরা

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন