পালিত মেয়েকে গোপনে বিয়ে করেছেন পালক বাবা; স্বীকৃতি না পেয়ে আত্মহত্যা

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ডিস ব্যবসায়ী ফজলু ওরোফে ফজেল (৫২) নামের এক ব্যক্তি বাবা সেজে সুমিয়ারা(২১) নামের এক মেয়ে কে পালন করে পরে গোপনে তাকেই বিবাহ করে। তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে আত্মহত্যা করেছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার ২১ মে স্ত্রীর দাবি নিয়ে ময়দানদীঘি বাজারের ডিস ব্যবসায়ী ফজলুর বাসায় গেলে তিনি সুমিয়ারাকে অস্বীকার করায় সুমিয়ারা কীটনাশক সেবনে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন।

বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে চাটমোহর রেলবাজার এলাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের লোকজনের নিকট লাশ হস্তান্তর করেছে। শনিবার ডিস লাইন ব্যবসায়ী ফজেলের বাড়ির আঙ্গিনায় তাকে দাফন করা হয়েছে।

অবশ্য নিহতের পরিবার বলছে, ফজলুর কাছে স্ত্রীর মর্যাদা চাইতে গেলে তাকে খাবারের সাথে কীটনাশক খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ফজলুর রহমান ওরাফে ফজেল খানমরিচ ইউনিয়নের পূর্ব রামনগর গ্রামের বাসিন্দা ও ময়দাদীঘি বাজারের প্রভাবশালী ডিস ব্যবসায়ী। ঘটনার পর থেকে ডিস ব্যবসায়ী ফজেল পলাতক রয়েছে। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও এলাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সুমিয়ারা একই ইউনিয়নের চকদিগর গ্রামের হতদরিদ্র আবুল কাশেম এর মেয়ে। আবুল কাশেম দারিদ্র হওয়ার কারণে ফজেলের ডিসের দোকানে শ্রমিকের কাজ করত।

সেই কাজের সুবাদে দুই সন্তানের জনক বৃদ্ধ প্রভাবশালী ফজলু ওরোফে ফজেল আবুল কাশেমের মেয়ে সুমিয়ারাকে নিয়ে লালন পালন করতে থাকে। এক পার্যায়ে সুমিয়ারা বড় হয়ে উঠলে ফজলু সুমিয়ারার সাথে অবৈধ্য সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে ২০১৮ সালে ২০ হাজার টাকা কাবিন দিয়ে গোপনে পাবনা নিয়ে তাকে বিবাহ করেন। এবং বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বলে ফজলু।

তাছাড়া সুমিয়ারার পরিবারে পক্ষ থেকে সুমিয়ারাকে বিবাহের জন্য চাপ দিলে গত শুক্রবার ২১ মে তার পরিবারের সদস্যদের নিকট তার অন্তঃসত্ত্বার কথা জানায় এবং এর জন্য ফজলুকে দায়ী করে সুমিয়ারা তার পরিবারকে বলেন যে, ফজলু তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিচ্ছে না।

এদিকে সুমিয়ারাকে স্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না দিলেও তাকে নিয়ে ডিস ব্যবসায়ী ফজেল এর আগে পূর্ব রামনগর ছাড়াও ময়দান দীঘি বাজারে নিজস্ব বহুতল ভবনে, ভাঙ্গুড়া বাজারে ও পাবনা শহরে একাধিক স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেছেন।

ঘটনার দিন দুপুরের দিকে সুমিয়ারা স্ত্রীর মর্যাদা নিয়ে ডিস ব্যবসায়ী ফজলু ওরোফে ফজেলের মাদয়দান দীঘি বাজারের বহুতল ভবন বাসায় গেলে ফজলু তাকে অস্বীকার করেন।

আবার অন্যদিকে ফজেলের বড় ছেলে আজিজও সুমিয়ারাকে ওই বাসায় ঢুকতে বাধা দেয়। উপায় না দেখে সুমিয়ারা ডিস ব্যবসায়ী ফজলুর বহুতল ভবনের সামনেই কীটনাশক সেবন করেন।

তারপর এক সময় সে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে সুমিয়ারার পরিবারের লোকজন তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

সেখানেও অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পাবনাসদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে চাটমোহর রেলবাজার এলাকায় পৌঁছালে সুমিয়ারার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় প্রতিবেশী রব্বেল বলেন, জীবিত সুমিয়ারার ফজেলের বাড়িতে স্থান না পেলেও মৃত সুমিয়ারা ফজেলের বাড়ির আঙ্গিনাতেই ঠাঁই পেয়েছে।

সুমিয়ারর পিতা আবুল কাশেম সাংবাদিকদের জানান, ফজলু বাবা হিসেবে তার (কাশেম এর) মেয়েকে পালন করার জন্য নিয়ে সেই মেয়ের সাথে এমন খারাপ কাজ করবে তা কোনো দিন ভাবি নাই।

ঘটনার বিষয়ে জানতে ফজলুর ওরোফে ফজেল এর গ্রামের বাড়ি পূর্ব রামনগরে গেলে তিনি পলাতক থাকায় তার ছেলে আজিজ বলেন, তার বাবা সুমিয়ারকে বিবাহ করেছিল মর্মে তিনি শুনেছিলেন। সুমিয়ারার লাশও ফজলের বাড়ির আঙ্গিনায় দাফন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার বিষয়ে তদন্তকারি কর্মকর্তা ভাঙ্গুড়া থানার এসআই ইব্রাহিম বলেন, ঘটনার বিষয়ে সুমিয়ারার পিতা আবুল কাশেম বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষেয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

আরও পড়ুনঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন