প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

স্বতঃকণ্ঠ ডেস্কঃ প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবীকারী একটি অপহরণ চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১২, হাটিকুমরুল, সলঙ্গা, সিরাজগঞ্জ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার দুলরাখালী পেরির মোড় এলাকার মোঃ আফছার আলী(৫২), সিরাজগঞ্জ সদর থানার খোকসাবাড়ী, প্রামানিক পাড়ার মোঃ সাইফুল ইসলাম মেয়ে মোছাঃ শারমিন খাতুন(২১) এবং স্ত্রী মোছাঃ মরিয়ম বেগম(৪৮)।

অপহৃত ব্যক্তি হলেন, বগুড়া জেলার গাবতলী থানার নেপালতলী ইউনিয়নের কদমতলী(দরিপাড়া) গ্রামের শ্রী নিরঞ্জান চন্দ্র সাহা’র ছেলে শ্রী রাম চন্দ্র সাহা (৩২)।

র‍্যাব-১২, হাটিকুমরুল, সলঙ্গা, সিরাজগঞ্জ স্পেশাল কোম্পানীর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার ও (মিডিয়া অফিসার) সহকারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয়, শনিবার ১০ এপ্রিল ভোর ৪টা ৩০ মিনিটের সময় র‌্যাব-১২ এর স্পেশাল কোম্পানীর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার ও (মিডিয়া অফিসার) সহকারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ এর নেতৃত্বে একটি চৌকষ আভিযানিক দলের গোয়েন্দা নজরদারীর মাধ্যমে ভিকটিমকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং অপহরণ চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়াও অপহরণকারীদের নিকট থেকে ১টি সিএনজি, ২টি মোবাইল, ১টি নিয়োগপত্র এবং ১টি ব্যাংক চেক বহি জব্দ করা হয়।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, গত ৭ এপ্রিল ২০২১ তারিখে শ্রী রাম চন্দ্র সাহা(৩২) কে অনেক খোঁজাখুজি করে না পাওয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা বগুড়া জেলার গাবতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পরে শ্রী রাম চন্দ্র সাহা(৩২) কে উদ্ধারের ব্যাপারে র‌্যাব-১২ এর কাছে সহায়তা চান তার পরিবারের সদস্যরা।

র‌্যাব-১২ এর অধিনায়কের নিদের্শনায় তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন র‍্যাব।

র‌্যাব-১২ এর মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ জানান, সোসিও ইকোনমিক ব্যাংকিং সোসিয়েশন(সেবা) এর বগুড়া শাখায় কর্মরত মোছাঃ শারমিন খাতুন(২১) বগুড়ায় চাকুরীর সুবাদে বগুড়ার ব্যবসায়ী রাম চন্দ্র শাহা (ভিকটিম) এর সাথে প্রতারণার অংশ হিসেবে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এবং বিভিন্ন সময় ভিকটিমের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে থাকেন।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমকে তার পাওনা টাকা ফেরত ও একান্ত সাক্ষাতের জন্য সিরাজগঞ্জ আসতে বলেন।

পরে ভিকটিম সিরাজগঞ্জে আসলে আসামী শারমিন বেলকুচিতে তার অপহরণ চক্রের সদস্যদের কাছে নিয়ে যান।

পরবর্তীতে বেলকুচি থানার চরনবিপুর গ্রামস্থ নামক স্থানে গেলে তারা ভিকটিমের হাত পা বেধে অস্ত্রের মুখে জিম্মী করে ভিকটিম রামচন্দ্রশাহার স্ত্রীর মোবাইল নাম্বারে ফোন করে ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে।

ধারনা করা হচ্ছে এই চক্রটি দির্ঘদিন যাবত মানুষকে বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে মুক্তিপণ আদায় করছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে বেলকুচি থানায় হস্তারের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন