বাজেট ভাবনা ২০২১-২০২২—– সময় এসেছে আমাদের পরবর্তি প্রজন্মের প্রতি খেয়াল রেখে গতানুগতিক ভাবনা থেকে বের হয়ে বাজেট ভাবনায় দীর্ঘ মেয়াদী স্থায়ীত্বশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

                                                                                          ।। নুরউদ্দিন শফি কাজল ।।

তাজউদ্দীন আহমদ অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন ১৯৭২-৭৩ অর্থ বছরে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষনার মধ‍্য দিয়ে যাত্রাশুরু করেছিল যে দেশটি পঞ্চাশ বছর পর গত ৩ জুন জাতীয় সংসদে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষনা করার সাহস দেখিয়েছে সে দেশের অর্থ মন্ত্রী।

এটি আমাদের জন‍্য যেমন গর্বের বিষয়, পাশাপাশি রয়েছে অর্জিত এ সক্ষমতাকে সঠিক ভাবে কাজে লাগিয়ে আমাদের ভবিষ‍্যৎ প্রজন্মের জন‍্য একটি বাসযোগ‍্য ভুখন্ড বির্নিমানের চ‍্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের এ বাজেট এমন এক সময় ঘোষনা করা হচ্ছে যখন করোনা মহামারী বাংলাদেশ সহ সমগ্র বিশ্বের আর্থ সামাজিক অবকাঠামোকে মারাত্মক এক বিপর্য্যয়ের মধ্যে ফেলেছে। যে কারনে স্বাস্থখাত সহ অনেক খাত নিয়ে গতানুগতিক ভাবনা থেকে বের হয়ে বিকল্প বা সৃষ্টিশীল ভাবনা বা পরিকল্পনা গ্রহনের সময় এসেছে।

বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় স্বাস্থ‍্য খাতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে এটি বোধ করি দেশের সকল নাগরিকের মতামতের প্রতিফলন। একইভাবে রুটি রুজির প্রশ্নে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিবেশ তৈরীতে মনোযোগি হওয়া প্রয়োজন আগামী প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে।

এই পরিস্থিতিতে বিগত ৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের পূর্ণাঙ্গ বাজেট আমাদের জাতীয় সংসদে পেশ করেছেন। তার বক্তব‍্যে জানা যায়, জীবন- জীবিকা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৃষি খাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রনয়ন করা হয়েছে।

বাজেটের প্রধান প্রধান বিষয় হলো নিম্নরূপ:

বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে আসবে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব বোর্ড বহির্ভূত আয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কর বহির্ভূত খাতে রাজস্ব আসবে ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এই ঘাটতি অর্থায়নে বিদেশী উৎস থেকে ঋণ প্রাপ্তি ১ লাখ ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা; অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা; ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা।

বাজেটের ব্যয় কাঠামো

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সম্পাদিত কাজের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী সামগ্রিক ব্যয় কাঠামো (উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয়) তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। সেগুলি হলো: সামাজিক অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো ও সাধারণ সেবা খাত।

বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫১০ কোটি টাকা বরাদ্দ ও মানবসম্পদ খাতে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব রাখা হয়।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয় ১ লাখ ৭ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা; কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৭৪ হাজার ১০২ কোটি টাকা এবং যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে ৬৯ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৭ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকার প্রস্তাব রাখা হয়। করোনা মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি টাকা। স্বাস্থ্যখাতে ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের গবেষণায় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় ২৬ হাজার ৩১১ কোটি টাকা; মাধমিক ও উচ্চ শিক্ষায় ৩৬ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষায় ৯ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা।

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪১ হাজার ১০ কোটি টাকা ও কৃষিখাতে ২৪ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪ হাজার ১৯১ কোটি টাকা; তৈরি পোশাক খাতে ১ শতাংশ হারে রপ্তানি প্রণোদনা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়।পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা।

গত বাজেটের তুলনায়                                                                                                                                                                                ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।প্রস্তাবিত বাজেটে করোনা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।আগের অর্থবছরের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ২৯ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা।

আগের অর্থবছরের তুলনায় এবার তিন হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাজেটে প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাজেটের মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব ৪৩ হাজার কোটি টাকা। ঘোষিত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে তিন কোটি পর্য্যন্ত আয়ে কোন সারচার্জ দিতে হবে না।

৭০ লাখ টাকার কম আয় হলে নারী উধ্যোক্তাদের কর দিতে হবে না এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে চাকুরি দিলে ৫ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়া হবে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ১২,০০০ টাকা, করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন তাদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮০০ কোটি টাকার বরাদ্দ এবং চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের (যারা করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত) জন্য বিশেষ সম্মানী বাবদ ১০০ কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রণোদনা সমুহ অভিনন্দনযোগ্য।

সামাজিক নিরাপত্তা ভাবনায় বাজেট                                                                                                                                                      সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দের সময় আমাদের মনে রাখা উচিৎ আমরা আগামিতে বাংলাদেশকে একটি জনকল‍্যানমুখি রাষ্ট্র হিসাবে দেখতে চাই।

অদুর ভবিষ‍্যতে সেই জনকল‍্যামুখি রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রথমিক পর্যায়ে এখন থেকেই দেশের প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে নিয়ে আসতে হবে।

সেখানে প্রতিটি বয়স্ক নাগরিকের জন‍্য বয়স্ক ভাতা, বেকারদের জন‍্য বেকার ভাতা ইত্যাদী। এসব ভাতার পরিমান খুবই ক্ষুদ্র হতে পারে। যাতে করে আমাদের আগামি প্রজন্ম বুঝতে পারে, আমাদের রাষ্ট্র আগামিতে আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা দিতে পারবে, জাগ্রত হবে তাদের দেশাত্ববোধ।

কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ রাখা হয়েছে তা প্রতিবারের বাজেটেই করা হয়। কিন্তু তার ইতিবাচক ফল উল্লেখযোগ্যভাবে পাওয়া যায় না বলে অর্থনীতিবিদরা মত প্রকাশ করেছেন।

বিগত বছর গুলোর ন‍্যায় বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে আবাসন খাতে, পুঁজিবাজারে, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন শিল্প স্থাপনে।

এটাও ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনবা কম। বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে এখন সময় এসেছে দেশে বিদেশে জমানো কালো টাকা চিহ্নিত করে বাজেপ্ত করা এবং এর মালিকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব‍্যবস্থা করা।

বাজেটের অপর বৈশিষ্ট্য হলো কোন রকম কর বৃদ্ধি না করে করের আওতা সম্প্রসারণ করা। বস্তুত: বাংলাদেশে বিত্তশালী মানুষেরাই কর ফাঁকি দিয়ে থাকেন বেশী। অনেকক্ষেত্রে অভিযোগ শুনা যায় বিভাগীয় কর কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ বিত্তশালীদের কর ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগির ভূমিকা পালন করে থাকেন।

একদিকে কর ফাঁকি বন্ধ করা অপরদিকে অপেক্ষকৃত কম বিত্তশালীদেরকে কম হারে কর ধার্য্য করে করদাতার সংখ্যা দ্বিগুনে পরিণত করা প্রয়োজন। ব্যক্তিখাতে করের সীমা বহুলাংশে বাড়ানো প্রয়োজন কারণ দ্রব্যমূল্য হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় ম্যধবিত্ত, নিম্নবিত্তদের করদান ক্ষমতা ক্রমশই কমে আসছে।  তাই দ্রব্যমূল্য যৌক্তিকভাবে কমানো ও তার অযৌক্তিক বৃদ্ধি রোধ করার কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে শীঘ্রই দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের উধ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। উদ্যোগটি বিলম্বিত তবুও তার প্রয়োজনীয়তা কম নয়। এটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার প্রয়োগ শুরু করতে পারলে ভ্যাকসিন প্রাপ্তির জটিলতা থেকে মুক্ত হওয়াই শুধু নয় ঐ ভ্যাকসিন বিদেশে রফতানির সুযোগও পাওয়া যেতে পারে।

আগামীর ভাবনায় বাজেট                                                                                                                                                                        মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি বিগত পঞ্চাশ বছরে বিভিন্ন সময় আমরা নানা বিষয়ে উন্নয়নের উদ‍্যোগ গ্রহন করেছি। প্রনয়ন করেছি সুন্দর সুন্দর বাজেট এরং উন্নয়ন পরিকল্পনা। এবছরের বাজেট বরাদ্দ অনুরুপ একটি উন্নয়ন পরিকল্পনার উপর দাড়িয়ে
গতানুগতিক ভাবে করা হয়েছে কিনা তা বাস্তবায়নের মধ‍্য দিয়ে জাতি বুঝতে পারবে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অতিতের এসব উন্নয়ন চিন্তা উল্লেখযোগ‍্য স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের রাস্তায় আমাদের নিতে পারে নাই। তাই আজ সময় এসেছে নতুন করে ভেবে দেখার। আমাদের উন্নয়ন চিন্তার সঙ্গে যুক্ত নীতি নির্ধারক, গবেষকগন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রনয়নে এবং গবেষনার ক্ষেত্রে আমাদের এই ভুখন্ডের ঐতিহ‍্যকে হিসাবে রাখতে পারেন নাই।

যার ফলশ্রুতিতে গবেষনার নামে বিদেশী ঐতিহ‍্য কৃষ্টি কালচারকে আমাদের দেশে, আমাদের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত করতে উদ‍্যত হয়েছেন। মিশর থেকে ছাগল এনেছেন আমাদের দেশের ছাগলের জাত উন্নয়নের জন‍্য।

আমাদের ছাগলের চামড়া, মংস এক সময় বিশ্বে সমাদৃত ছিল। তাদের তথাকিথত উন্নয়নের ফাদে পড়ে আমরা হারিয়ে ফেলেছি সেই জাত। অথচ আমাদের নদীমাতৃক বংলাদেশের কামার, কুমার জেলে, তাতি, চাষিসহ সকল পেশাজিবিদের ছিল অতিত ঐতিহ‍্য।

আজও বিদেশের নামি দামি যাদুঘরে অতিত ঐতিহ‍্যের যে সব তরবারি দেখা যায় খোজ নিলে দেখা যাবে তা আমারই কোন এক
কামারের তৈরী। অনুরপ ভাবে বৃটেনের যাদু ঘরে শোভা পাওয়া বিশ্ব বিখ‍্যাত মসলিন শাড়ী আমাদেরই কোন তাতির তৈরী।

পাঠক ২০২১ সলালের বাজেট আলোচনায় এসব কথা “ধান বানতে শীবের গীত“ মনে করবেন না। আমি বলতে চাচ্ছি আমাদের স্থায়িত্বশীল সকল উন্নয়ন চিন্তা আমাদের গৌরবময় ঐতিহ‍্যকে মাথায় রেখে করা প্রয়োজন।

বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেটে যোগাযোগ আবকঠামো খাতে যে বাজট বরাদ্দ রাখা হয়েছে তার সর্বোচ্চ ব‍্যাবহার করা হোক নদীমাতৃক বাংলাদেশের অতিত ঐতিহ‍্যকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ‍্যে।

একদিকে নদীগুলি সংস্কার, অপরদিকে নদীর দুই পাড়ে ব্যাপকভাবে শিল্পায়ন ও রেলপথের ব্যাপক সম্প্রসারণের মাধ্যমে একমাত্র তা
করা সম্ভব হতে পারে। নদী সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতি বিকাশের বিপুল ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্টানিক আপ্রাষ্ঠানিক খাতে ব‍্যপক কর্মসংস্থান তৈরী হবে।

সঙ্গত কারনেই গতবছর থেকে এ বছর স্বাস্থ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখানে স্মরণ রাখা প্রয়োজন বরাদ্দ ব‍্যবহারে স্বাস্থ খাতের যে সক্ষমতা তাতে দেখা গেছে গতবারের বরাদ্দকৃত বাজেট পুরাপরি কাজে লাগান সম্ভব হয় নাই।

অপরদিকে করোনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ভৌত আবকাঠামো আর কিছু মেশিনারি এ ধরনের মহামারী রোধে নিয়ামক ভুমিকা রাখতে যথেষ্ট নয়। যার প্রমান আমরা দেখতে পাই পাশ্ববর্তি দেশ ভারতের করুন পরিনতিতে।

এখানে উল্লেখযোগ‍্য ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ এ ধরনের মহামারিতে অতটা কাবু হয় নাই। এখানে কোন কোন বিশেষজ্ঞর মতে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষের গড় রোগ প্রতিরোধ মাত্রা ভাল।

এক্ষেত্রে আমাদের স্বাস্থ‍্য খাতের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নাগরিকের রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। সেক্ষেত্রে স্কুল কলেজ অফিস আদালত সহ সর্বক্ষেত্রে শারিরিক প্রশিক্ষন, জীম প্রতিষ্ঠা, ভেজালমুক্ত খাদ‍্য সরবরাহ নিশ্চিত করার মত মৌলিক বিষয়ের দিকে বিনিয়োগকে স্বাস্থ‍্য খাতে বিনিয়োগ হিসাবে বিবেচনায় নেওয়া উচিৎ।

কোন কোন বিষেশজ্ঞ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতের বিনিয়গের প্রয়োজনিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তাদের মতে বর্তমান বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশি যেহেতু ভারত। সেজন‍্য প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই।

এ ধরনের চিন্তা একটি বীর জাতিকে নপংসুক জাতিতে পরিনত করতে পারে। বীর জাতি হিসাবে আমাদের প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে সমরস্ত্র উৎপাদন এবং বাজারজাতকরনে এখনই মনোযোগি হওয়া উচিৎ ভবিষ‍্যত প্রজন্মের জন‍্য একটি নিরাপদ আবাসভুমি গড়ে তোলার বিষয় সামনে নিয়ে। নতুবা আমাদের সম্ভাবনাময় তেল গ‍্যাস সম্পদ কাজে লাগিয়ে উন্নত স্বাধিন জাতি হিসাবে টিকে থাকা সম্ভব হবে না।

পরিশেষ                                                                                                                                                                                          সবশেষে আজ এটি বলার সময় এসেছে প্রস্তাবিত বাজেটে যে খাতে যে পরিমান বরাদ্দ রাখা হয়েছে সে বরাদ্দ যে উৎস থেকেই আহরন করা হোক না কেন দিন শেষে প্রতিটি নাগরিককে তা পরিষোধ করতে হবে।

অতএব ব‍্যায়ের ক্ষেত্রে গতানুগতিক চিন্তা চেতনা থেকে বের হয়ে এসে বরাদ্দের প্রতিটি টাকা যেন আমাদের গৌরবময় অতিতকে সম্মুন্নত রেখে, এমন ভাবে ব‍্যায় করা উচিৎ যাতে আগামি প্রজন্ম হারানো গৌরবকে ফিরিয়ে এনে বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করে দাড়াতে পারে সে বিষয়ে সবিশেষ গুরত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিৎ।

সম্পাদক, দৈনিক স্বতঃকণ্ঠ
সভাপতি, পাবনা সংবাদপত্র মালিক গ্রুপ

 

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন