বিডিবিও-সমকাল জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড সিলেট অঞ্চল পর্ব সম্পন্নঃ জাতীয় পর্যায়ে যাচ্ছে ১৫১ জন শিক্ষার্থী

মিজানুর রহমান, সিলেট প্রতিনিধিঃ বিডিবিও-সমকাল বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের সিলেট অঞ্চল পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) জীববিজ্ঞানের আকর্ষণে এই উৎসবে সামিল হয়েছিল সিলেট বিভাগের চার জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮শ শিক্ষার্থী। এই উৎসবের আয়োজক সমকাল ও বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (বিডিবিও)। সিলেট থেকে ১৫১ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ে অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ সংলগ্ন মাঠে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে উৎসবের উদ্বোধন করেন সিকৃবি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মতিয়ার রহমান হাওলাদার। এসময় বাংলাদেশ জীব‌বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, আঞ্চলিক ক‌মি‌টি ও সমকা‌লের পতাকা উত্তোলন ক‌রেন যথাক্র‌মে বি‌ডি‌বিও সভাপ‌তি প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূইয়া, অ‌লি‌ম্পিয়া‌ডের আঞ্চলিক আহবায়ক প্র‌ফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় কুন্ড ও সমকা‌লের সি‌লেট ব্যুরো প্রধান চয়ন চৌধুরী। সবশেষ প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা বেলুন উড়িয়ে উৎসবের সূচনা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিকৃবি’র ‌ডীন প্র‌ফেসর ড. স্নেহাংশু শেখর চন্দ, ডীন প্রফেসর ড. রুহুল আমিন, ডীন প্রফেসর ড. সান‌জিদা পার‌ভিন, ডীন প্রফেসর ড. রুমেজা খাতুন, রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম শো‌য়েব প্রমুখ। এরপর অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা এক ঘন্টার পরীক্ষায় অংশ নেয়।

এই আয়োজনে বিশেষ সহযোগী কথাপ্রকাশ, প্রশিক্ষণ সহযোগী ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি ও কারিগরি সহযোগী ল্যাববাংলা। এবারের উৎসবের স্লোগান- ‘সূর্যোদয়ের দেশে হোক নতুন সূর্যোদয়।’ বাংলাদেশে অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ীরা জাপানে অনুষ্ঠেয় এবারের আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে।

পরীক্ষা শেষে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনের মাঠে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মতিয়ার রহমান হাওলাদার। বিডিবিও’র সিলেট আঞ্চলিক সভাপতি প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় কুন্ডে সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূইয়া ও সিলেট মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডারের সাবেক কমান্ডার ভবতোষ রায় বর্মন। সিকৃবি’র সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন সমকা‌লের সি‌লেট ব্যুরো প্রধান চয়ন চৌধুরী ও অলিম্পিয়াডের বিশেষ সহযোগী কথাপ্রকাশের প্রোগ্রাম কর্মকর্তা এসএম শাহরিয়ার মাসুদ। স্বাগত বক্তৃতা করেন বিডিবিও’র আঞ্চলিক সেক্রেটারি সৈয়দ জাহিদ হাসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মতিয়ার রহমান হাওলাদার বলেন, বর্তমান শতাব্দী জীববিজ্ঞানের শতাব্দী। এই শতাব্দীতে জীববিজ্ঞান সবচেয়ে বেশি এগিয়ে যাবে। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে বিজ্ঞানের সকল শাখার মধ্যে জীববিজ্ঞানের অবদান সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। সুশিক্ষা অর্জন করলে প্রশিক্ষণের দরকার পড়ে না। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুশিক্ষার মাধ্যমে জীববিজ্ঞানে বাংলাদেশকে অনেকদুর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূইয়া বলেন, বাংলাদেশে জীববিজ্ঞান একমাত্র জায়গা, যেখানে আমরা নানা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি। ধান, মাছসহ বিভিন্ন ধরণের নতুন ও উন্নতি প্রজাতি আমরা সৃষ্টি করেছি। একের পর এক গবেষণার পথ সৃষ্টি হচ্ছে। জীববিজ্ঞান ছাড়া সবকিছু অচল মন্তব্য করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জীববিজ্ঞানে আমরা আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছি। প্রথম পর্যায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমরা শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করেছিলাম৷ পর্যায়ক্রমে ব্রোঞ্জ পদক অর্জনে সক্ষম হয়েছি। ভবিষ্যতে স্বর্ণপদক অর্জনের স্বপ্ন দেখি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ভবতোষ রায় বর্মন বলেন, বিজ্ঞানের জ্ঞানের সাগরে ভাসা এই পৃথিবীতে নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এজন্য সবাইকে বিজ্ঞান চর্চা করতে হবে। বিজ্ঞানের পাশাপাশি এই প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে; শহীদদের জানতে হবে। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে নিজের অভিজ্ঞতার গল্প শুনিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে বর্তমান প্রজন্মকে সবক্ষেত্রে দেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে।

সমকাল’র সিলেট ব্যুরো প্রধান চয়ন চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ ক্রমে এগিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এজন্য নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষে সমকাল জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজনে যুক্ত হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে সমকাল নিয়মিত নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সভাপতির বক্তব্যে বিডিবিও’র সিলেট আঞ্চলিক সভাপতি প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় কুন্ড সবাইকে মুজিববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জীববিজ্ঞান ছাড়া পৃথিবী অচল। তাই প্রত্যেকের বিজ্ঞানের এই গুরুত্বপূর্ণ শাখার চর্চা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অভিভাবকসহ সকলের সাথে সত্য কথা বলতে হবে। সত্য ছাড়া জীববিজ্ঞান চর্চা করা যাবে না। হৃদয়ে সত্যকে ধারণ করেই বাংলাদেশ জীববিজ্ঞানে সফল হয়ে আসবে।

সমাপণী ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের বক্তৃতা পর্বের আগে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশেষজ্ঞ প্যানেলের শিক্ষকরা। এই প্যানেলে ছিলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডীন প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. গোকুল চন্দ্র বিশ্বাস, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. এনামুল কবীর, সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক রুবাইয়াত নাজনীন আখন্দ।

এই আয়োজনে সিকৃবি’র এনজাইমদের (শিক্ষার্থী) পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সমকালের ফটো সাংবাদিক ইউসুফ আলী, সমকাল সুহৃদ সমাবেশ সিলেটের সভাপতি সুব্রত বসু, সিনিয়র সহ-সভাপতি সুজিত দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক সজিব চৌধুরী, সুহৃদ সুচরিতা ভট্টাচার্য, তমালিকা দত্ত, তন্বী দাস, অনামিকা দাস, সুদীপা তালুকদার, অহনা মিতু প্রমুখ।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন