লকডাউনে ঈশ্বরদীতে বেড়েছে রিকশা ও অটোর চলাচল—পুলিশও তৎপর

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতাঃ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে ঈশ্বরদীর রাস্তাঘাট প্রথম দিনের মতো ফাঁকা নেই। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও রাস্তায় রিকশা ও অটো চলাচল বেড়েছে।

কিছু সিএনজি চালিত অটোরিকশাও চলতে দেখা গেছে; বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়িও।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ঈশ্বরদীর কলেজ রোড, ষ্টেশন রোড, পাবনা রোড, বিমানবন্দর রোড, আইকে রোড, শেরশাহ রোড ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

তবে যান ও পথচারী চলাচল নিয়ন্ত্রণে তৎপর রয়েছেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও।

কয়েকটি স্থানে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে বিধিনিষেধ আরোপে প্রাণপন প্রচেষ্টা চালাতে দেখা গেছে।

প্রথম দিনে বিভিন্ন সড়কে রাস্তায় বেষ্টনী দিয়ে যান চলাচল বন্ধের যে দৃশ্য দেখা গিয়েছিল দ্বিতীয় দিনে তা নেই।

পরিবর্তে তল্লাশি চৌকিতে প্রত্যেকটি যানবাহন থামিয়ে মুভমেন্ট পাস আছে কিনা জানতে চাইছেন পুলিশ সদস্যরা।

জরুরি সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাড়া অন্যদের ‘মুভমেন্ট পাস’ ছাড়া বাসার বাইরে না আসতে মাইকিংও করা হয়েছে।

রিকশাচালক লাল্লু মিয়া বলেন, “ পেটের খিদায় রাস্তায় নামছি। ভুল হইছে আমার। কিন্তু করণের কিছু নাই।”

একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানালেন, ‘লকডাউনে’ কোনো ধরনের যানবাহন রাস্তায় বের করা নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা ভেঙেছে বলেই কিছু রিকশা ও মোটর সাইকেল আটক করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেওয়া হবে।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে যথারীতি বন্ধ আছে সব বিপণী বিতান। তবে বাজারে কয়েকটি কাপড়ের দোকানদের এক পাল্লা খুলে বসে থাকতে দেখা গেছে।

ঈশ্বরদীর মনির প্লাজা, জাকের সুপার মার্কেট ও বঙ্গবন্ধু মার্কেটের দোকানদাররা বলেন, “২১ এপ্রিল পর্যন্ত এসব মার্কেট বন্ধ থাকবে। দোকানের মালিক-স্টাফরাও প্রবেশ করতে পারবেন না। খুব কড়াকড়ি নির্দেশনা আছে দোকান মালিক কর্তৃপক্ষের।”

করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে বুধবার সকাল থেকে কঠোর বিধিনিষেধ চালু করে সরকার। এই বিধি নিষেধকে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ বলা হচ্ছে। টানা আটদিনের এই নিষেধাজ্ঞা চলবে ২১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত।

তবে লকডাউনের মধ্যে পোশাক রপ্তানি প্রতিষ্ঠানসহ শিল্প-কলকারখানা খোলা রাখা হয়েছে।

বাংলা নববর্ষের ছুটির পর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে তিন ঘণ্টার জন্য ব্যাংক লেনদেন ও পুঁজিবাজারের কার্যক্রমও চালু হয়েছে।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন