সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কৃষকের ঘরে নতুন রসুন দাম নিয়ে চিন্তিত কৃষক

তাড়াশ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ঘরে ঘরে নতুন রসুন তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা, শস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিলে শুরু হয়েছে বিনাচাষে লাগানো রসুন তোলার মৌসুম।

চলতি মৌসুমে চলনবিলের তাড়াশ উপজেলায় রসুনের আবাদ হয়েছে ৫১৭ হেক্টর জমিতে। এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় রসুনের ফলন কম হওয়া ও দাম নিয়ে চরম চিন্তায় পরেছেন কৃষি পেশার জনগন।

রসুনের বাজার বৃদ্ধি না পেলে লোকশানের মুখে পরতে হবে আবাদীদের। সরেজমিনে দেখা গেছে, চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার চরকুশাবাড়ী, নাদোসৈয়দপুর, ধামাইচ, সবুজপাড়া,
চরহামকুরিয়া, বিন্নাবাড়ী, হামকুড়িয়া সহ বিভিন্ন মাঠে ।

কৃষকেরা বিনাচাষে কাঁদা মাটিতে লাগানো রসুন তুলছেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও রসুন তোলা কাজে সহযোগীতা করছেন।

উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের চর হামকুরিয়া গ্রামের রসুন চাষী আব্দুল গনি (৫৫) বলেন, এবারে প্রতি বিঘা রসুন আবাদে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে কিন্তু ফলন হচ্ছে বিঘা প্রতি ১৮ থেকে ২০ মণ । বর্তমানে বাজার মূল্যে প্রতি মণ রসুনের মূল্য ১ হাজার টাকা থেকে ১৫শ টাকা হওয়ায় লোকসানে পরতে হবে আমাদের।

ওই একই গ্রামের রসুন চাষী রবিউল ইসলাম (৩৫) বলেন, জমিতে রসুনের গাছ ভাল দেখা গেলে ভেবেছিলাম ফলন এবার বাম্পার হবে। গত বছরেও বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ৩০মন রসুন হতো কিন্তু এবার ফলন কম হচ্ছে। বাজারে রসুন বিক্রি করতে গেলে দামও ভালো পাচ্ছিনা। সরকারের কাছে আামাদের দাবী যেন রসুনের বাজার বৃদ্ধি করে দেয়। নইলে আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে ।

এবং তাড়াশ উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আমরা রসুন লাগানো থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ দিয়েছি। এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর রসুনের ফলন কম হয়েছে।

এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফুন্নাহার লুনা বলেন, তাড়াশ উপজেলায় ৫১৭ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত রসুন দেশের মানুষের অনেকটাই চাহিদা পুরন করবে।

তিনি আরও বলেন, ফলন একটু কম হলেও যদি বাজারে রসুনের মুল্য বেশী থাকতো তাহলে আগামীতে এ রসুন চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়তো।

আরও পড়ুনঃ সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ভারত থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ০৩ রোহিঙ্গা আটক

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন