সিরাজগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে পুত্রবধু নার্গিসকে মারপিট করে তার মাথার চুল কেটে আহত অবস্থায় ফেলে রাখে শ্বশুর হাবিবুর রহমান.

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জে এক পুত্রবধুকে যৌতুকের দাবিতে মারপিট করে মাথার চুল কেটে দিয়েছে শ্বশুর ও তার পরিবারের লোকজন। এমন বর্বরচিত ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার প্রত্যান্ত মহেষপুর গ্রামে। নির্যাতিতা গৃহবধুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান তার স্বজনেরা।

আর এই ঘটনায় জড়িত নির্যাতিতার শ্বশুর হাবিবুর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ। তবে থানায় এখনও কোন মামলা হয়নি বলে জানান ওসি।

জানাগেছে, গত রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামে যৌতুকের দাবিতে পুত্রবধু নার্গিসকে মারপিট করে তার মাথার চুল কেটে আহত অবস্থায় ফেলে রাখে শ্বশুর হাবিবুর রহমান ও তার পরিবারের লোকজন। পরে আহত স্ত্রী কে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে তার স্বজনেরা।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে গৃহবধু। দুই সন্তানের জননী নার্গিস বেগম জানান বিয়ের পর থেকেই যৌতুক লোভী শ্বশুর তার উপর নির্যাতন করতো, মাঝে মাঝে কুপ্রস্তাব দিতো।

নার্গিসের স্বামী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভালোবেসে নিজের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করার কারণেই তার বাবা তার ওপর ক্ষুব্ধ। এ কারণে তাদের ওপর প্রায়ই বাবাসহ পরিবারের অন্যরা নির্যাতন চালায় ।

নার্গিসের বাবা ইব্রাহিম বলেন , বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের উপর শ্বশুর বাড়ীর লোকেরা যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো তা গ্রামের লোকজন জানে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন সময় সালিশ হয়েছে। কিন্তু তারা সালিশ না মেনে তার ছেলের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলাও দায়ের করেছিলেন পিতা হাবিবুর।

এ বিষয়ে উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, নার্গিসের শ্বশুরবাড়ির লোকেরা যৌতুকের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চাপ প্রয়োগ করে আসছিলো এবং বিভিন্ন সময় নার্গিস ও তার স্বামী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এমনকি নিজের ছেলের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলাও করেছিলেন হাবিবুর । এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠকও হয়। কিন্তু হাবিবুর কোনো বিচার মানে না।

গৃহবধুর ভাবী জানান, বিয়ের সময় যৌতুক দেয়া হলেও বিয়ের পর থেকে শ্বশুর আরো যৌতুকের দাবিতে মাঝে মাঝেই নির্যাতন করতো তার ননদসহ পরিবার।

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ শামীমুল ইসলাম, নির্যাতিতার শরীরে আঘাতের চিহৃ রয়েছে তবে বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস জানান, এই ঘটনায় জড়িত শ্বশুর হাবিবুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। তবে পরিবারের অন্যরা এখনও পলাতক আছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন