সৌদি আরবের মেয়েদের জন্য যে কাজ গুলো করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ

সৌদি আরব পৃথিবীর মধ্যে মহিলাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে রক্ষণশীল দেশগুলোর মধ্যে একটি। সৌদি আরব একটি মুসলিম দেশ এবং ইসলামের সকল নিয়ম-নীতি মেনেই এই দেশের সংবিধান তৈরি করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবে সমাজে নারী হয়ে বসবাস করা খুব সহজ নয়। কারণ তারা নিজের ইচ্ছা মত কিছু করতে পারেন না।

সৌদি আরবের মহিলাদের একা বাহিরে যেতে হলেও তাদের পিতা অথবা স্বামীর কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হয়।

সৌদি আরবের মেয়েদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল তবে সেটি এই বছর ২৪ শে জুন তুলে নেওয়া হয়েছে। যার ফলে তারা এখন গাড়ি চালাতে পারবেন। এছাড়াও সৌদি নারীদের সিনেমা দেখায় , স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে যাওয়া এবং গাড়ি চালাতে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।

তবে সৌদি নারীদের এখনো কিছু কাজের ওপর জোরদার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে:

১. কোন সৌদি নারী পুরুষ বন্ধুর সাথে বসে কফি খেতে পারবেন না

যেকোনো খাবার দোকান অথবা রেস্টুরেন্ট কিংবা ম্যাকডোনাল্ডস স্টারবাকস কোন খানেই মহিলা এবং পুরুষ একসাথে বসতে পারবেন না। তাদের প্রত্যেকটি রেস্টুরেন্ট কিংবা কফি শপে ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের বসার স্থান আলাদা করা থাকে।পুরুষদের জন্য যে আলাদা জায়গাটি নির্ধারিত তাকে সেখানেই বসতে হবে এবং সকল নারীকে পরিবারের জন্য যে নির্ধারিত জায়গাটি রয়েছে সেখানে বসতে হবে।আর এই নিষেধাজ্ঞা যদি কোনো নারি পালন না করে তবে ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়।

২. পাসপোর্ট নেওয়া নিষেধ যার কারণে বিদেশে যাওয়া নিষেধ

সৌদি নারীদের কোন পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিমানে ওঠার প্রতি জোরদার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যেহেতু তাদের গাড়ি চালানোর অনুমতি রয়েছে তাই জন্য তারা গাড়ি চালিয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত যেতে পারবেন তবে কোন পুরুষের অনুমতি ছাড়া পাসপোর্ট করা কিংবা বিদেশে যাওয়া পুরোপুরি নিষেধ।

৩. ব্যাংক একাউন্ট খোলা নিষেধ

পরিবারের পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া একজন নারী কখনো ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারবেন না সৌদি আরবের এই অর্থসংক্রান্ত ব্যবস্থাটির অর্থ হলো প্রত্যেক নারীর একজন করে পুরুষ অভিভাবক থাকতে হবে যিনি তাঁর পক্ষ হয়ে সকল গুরুত্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন যার কারণে সৌদি নারীরা গাড়ি চালাতে পারবেন ঠিকই তবে সেটি কিনতে পারবেন না।

৪. বিয়ে এবং তালাক কোন সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারবেনা

সৌদি কোন নারীর যদি বিয়ে করতে হয় তবে অবশ্যই তাকে তার পুরুষ অভিভাবকের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে , সেই নারীর পরিবারে যদি ছোট কোন ভাই তথা 5- 6 বছর কিংবা তারও কম বা বেশি এরকম যদি পুরুষ থেকে থাকে তবে সেও তার অভিভাবক হতে পারবে। আর বিবাহের পর যদি তালাক নিতে হয় তবে সে নারীকে অবশ্যই তার স্বামীর অনুমতি নিতে হবে।

৫. নিজের মন মত কিছুই করতে পারবেন না

কোন নারী নিজের ইচ্ছামত পোশাক-আশাক পরিধান করতে পারবে না যেমন গরমের দিনে যেখানে সৌদি আরবের তাপমাত্রা গড়ে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে থাকে এর মাঝেও যদি সে সমুদ্র সৈকতে গিয়ে খোলামেলা পোশাক পরতে চায় সেটার কোনো সুযোগ নেই। তাদেরকে সবসময় পর্দা করে চলতে হবে মুখ ঢাকা যদিও তাদের অত্যাবশ্যকীয় নয় তবে তাদের শরীর মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরোপুরি ঢেকে রাখার ওপর কড়াকড়ি নির্দেশ রয়েছে।

যদিও এখনও সংবিধানের নারীদের জন্য কিছু পরিবর্তন নিয়ে এসেছে তারপরও সৌদি আরব এমন একটি দেশ যা পুরুষদের দেশ বলে আখ্যায়িত হয়।

আরও পড়ুনঃ পাবনার সাঁথিয়ায় কর্মজীবী মেয়েদের হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন