হত্যা মামলায় আসামীদের বাড়ীতে ভাংচুর ও লুট

সাঁথিয়ায় হত্যা মামলায় আসামীদের বাড়ীতে ভাংচুর লুটপাট। পাবনার সাঁথিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে  উপজেলার  ধোপাদহ ইউনিয়নের দয়ারামপুর গ্রামে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনার ২১দিন পর ওই গ্রামের এক পুলিশের বাড়ীসহ অন্য আসামীদের বাড়ীতে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে হত্যা মামলার  আসামী সিদ্দিক, আলহাজ ও আলহাজের ভাই(যিনি আসামী নন) রবিউল ইসলাম পুলিশের বাড়িতে। রবিউল ইসলাম পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে বগুড়ায় কর্মরত আছেন।

গতকাল শনিবার সরোজমিনে রবিউলের বাড়িতে গেলে দেখা যায় ৪টি কক্ষে লুটপাট ও বাড়িতে ভাংচুরের চিহ্ন রয়েছে। তার শতোর্ধবৃদ্ধ পিতা আঃ রহমান পাষান (১০৫) ও বয়োবৃদ্ধ মাতা হাজেরা খাতুন (৯০) আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন  দৃষ্টিতে ঘরের বারান্দায় বসে আছেন। তারা জানান শুক্রবার রাতে মুখোশপরা ৭/৮ জন ব্যাক্তি  অতর্কিত তার বাড়িতে হামলা করে । তারা ছুরি বের করে ভয়ভীতি দেখিয়ে দু’জনকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর বাড়িতে ইচ্ছামত লুটপাট করে। এসময় তারা ৪টি খাট, ৪টা ফ্যান,  ১টা ফ্রিজ, ২টা শোকেস, ২টা নলকুপ, পানির মটর, ২টা খাবারের র‌্যাক, বাক্সে রক্ষিত টাকা ও সোনাদানা জমিজমার মূল্যবান দলিল-পত্র, পেঁয়াজ, রসুন ধান লুট করে নিয়ে যায়। তারা বাথরুম টয়লেটসহ বাড়িঘর ভাংচুর করে। এর আগে তার ৫বিঘা জমির সমস্ত পিঁয়াজ লুটপাট করে নেয়।

বর্তমানে জমির বেগুন মরিচ কিছুই তুলতে পারছেন না। তিনি জানান বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিপক্ষ প্রথম তার বাড়িঘর ভাংচুর করলে সাঁথিয়া থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগ দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারই জেরে শুক্রবার রাতে তারা এই ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এই বৃদ্ধ বয়সে তারা যেন বাড়িতে থাকতে পারেন এই আবেদন জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসনের কাছে। একই গ্রামের মতিনের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তার বাবা হাসেন (৭৫) অসুস্থ অন্য বাড়িতে শুয়ে আছে। তিনি জানান, সব কিছু নিয়ে গেছে বাবা। কিছুই নেই।

উল্লেখ্য ২৫মার্চ উপজেলার দয়ারামপুর গ্রামের তাজমল মেম্বর গ্রুপ ও এনামুল হক শশী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে শশী গ্রুপের নাজির নামে একজন নিহত হয়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাঁথিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন