হাইতির রাষ্ট্রপতি হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারর ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিক

স্বতঃকণ্ঠ আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোসয়েলের হত্যার ঘটনায় একজন মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইতির রাষ্ট্রীয় সংস্থা।

বৃহস্পতিবার ৮ জুলাই মার্কিন নাগরিক জেমস সোলেজকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে হাইতি কর্তৃপক্ষ। বুধবার ৭ জুলাই ভোরে একদল সশস্ত্র আততায়ী হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোসয়েলের বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যা করে।

হাইতির একজন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্ট এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস কে বলেন, হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোনির্সের হত্যার ঘটনায় একজন মার্কিন নাগরিক এবং হাইতিয়ান আমেরিকান বলে মনে করা আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

হাইতির নির্বাচন ও আন্তঃদলীয় সম্পর্ক মন্ত্রী মাথিয়াস পিয়ের বলেন, হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক জেমস সোলেজকে বৃহস্পতিবার ভোরে প্রেসিডেন্টকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ছয় জনের একজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পিয়ের বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আরও একজন ব্যক্তি হাইতিয়ান আমেরিকান বলে মনে করা হচ্ছে।

এপি জানিয়েছে, দক্ষিণ ফ্লোরিডায় সোলেজ একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ওয়েবসাইট স্থাপনে সহায়তা করেছে। এপি তাকে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। এবং সোলেজ হাইতিতে কানাডিয়ান দূতাবাসের জন্য “বডি-গার্ডের প্রধান কমান্ডার” হিসেবে কাজ করতেন।

ওয়েবসাইটের একজন কর্মকর্তা বলেন, “পরামর্শদাতা হিসেবে তার কার্যকালের আগে, তার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে, যারা অভাবী সম্প্রদায় এবং হাইতিকে সহায়তা করে।” “মিঃ সোলেজ একজন যুব নেতা এবং সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের পক্ষে একজন উকিল।” তিনি মি. সোলেজকে “সার্টিফাইড কূটনৈতিক এজেন্ট” এবং “বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ার” হিসাবেও বর্ণনা করেছে।

অলাভজনক সংস্থাটি তাৎক্ষণিকভাবে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

৫৩ বছর বয়সী মোসলিকে একদল সশস্ত্র আততায়ী বুধবার রাত ১টার দিকে তার বাড়িতে ঢুকে হত্যা করে। তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি মার্টিন মোসলি এই হামলায় গুরুতর আহত হন এবং বন্দুকের গুলির আঘাতের চিকিৎসার জন্য তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে আছেন।

হাইতির জাতীয় পুলিশের পরিচালক লিওন চার্লস সাংবাদিকদের বলেন, এই মারাত্মক হামলার ঘটনায় ছয় জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে সন্দেহভাজন এমন আরও চারজন নিহত হয়েছে।

চার্লস বলেন, হাইতিয়ান কর্তৃপক্ষ এখনও আরও আততায়ী খুঁজছে। ভাড়াটে সৈন্যদের অনুসরণ অব্যাহত রয়েছে। তাদের ভাগ্য ঠিক হয়ে গেছে, তারা লড়াইয়ে পড়বে অথবা গ্রেফতার হবে।”

অন্যান্য সন্দেহভাজনদের পরিচয় এখনও অস্পষ্ট। হাইতির যোগাযোগ মন্ত্রী প্রাদেল হেনরিকেজ তাদের “বিদেশী” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সূত্রঃ এপি/ওয়াসিংটন পোস্ট।

আরও পড়ুনঃ জি-৭ নেতাদের উপহাস করে চীনা কার্টুন অনলাইনে ভাইরাল

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন