১৩ বছর পর ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড

জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালীঃ নোয়াখালীর চাটখিল থানায় স্কুলছাত্রীকে (১৬) ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলার পলাতক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাস কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার ২৩ ফেব্রুয়ারী দুপুরে নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (জেলা জজ) জয়নাল আবদীন এ রায় দিয়েছেন।

দন্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. শহীদ (৩০)। তিনি ঘটনার পর থেকে পালাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২ মার্চ দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী (১৬) ধর্ষণের শিকার হন।

চাটখিল উপজেলার রামনারায়ণপুর গ্রামের মো. শহীদ তাকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে কৌশলে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক বিয়ে করার চেষ্টা করে।

তাতে ছাত্রী রাজি না হওয়ায় রাতে ছাত্রীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে শহীদ।

ঘটনাটি স্থানয়ভাবে একাধিকবার মিমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে বিচার না পেয়ে ছাত্রী নিজেই বাদী হয়ে প্রায় তিন মাস পর ২৪ জুন ২০০৭ সালে চাটখিল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে।

সূত্র জানায়, একই বছরের ২০ আগষ্ট চাটখিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক মৃধা অভিযুক্ত শহীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ (১) ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এরপর দীর্ঘ ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক চলে। সব শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন বিচারিক আদালত।

উক্ত রায়ে মামলার পলাতক আসামি মো. শহীদকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাস কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনাকারী সরকারি কৌঁসুলী মামুনুর রশীদ লাভলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন