২০২০ সালে ফেসবুক সিইও মার্ক জুকারবার্গের নিরাপত্তার জন্য ২৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে একটি নতুন ফাইলিং দেখায় যে, ফেসবুক গত বছর সিইও মার্ক জুকারবার্গের নিরাপত্তার জন্য ২৩ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে।

শুক্রবার দায়ের করা এক প্রক্সি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফেসবুকের কোম্পানির নিরাপত্তা নিয়ে বার্ষিক পর্যালোচনায় “মিঃ জুকারবার্গের প্রতি নির্দিষ্ট হুমকি চিহ্নিত করেছে।”

“তিনি ফেসবুকের সমার্থক এবং এর ফলে আমাদের কোম্পানি সম্পর্কে নেতিবাচক অনুভূতিগুলোর সাথে সরাসরি যুক্ত এবং নেতিবাচক অনুভূতির তীরগুলো মিঃ জুকারবার্গের দিকেই স্থানান্তরিত হয়,” প্রক্সি ফেসবুক সিইওর ভূমিকা সম্পর্কে এসকল তথ্য পরিবেশন করে।

কোম্পানির নিরাপত্তা কার্যক্রমের বার্ষিক পর্যালোচনা দেখায় যে, জুকারবার্গ এবং তার পরিবারকে রক্ষা করার ব্যয় ২০২০ সালে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানত কোভিড-১৯ ভ্রমণ প্রোটোকলের কারণে, ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনের মৌসুমে নিরাপত্তা কভারেজ বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সময়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি সহ নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারনে এই ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রক্সি বিবৃতির “অন্যান্য সমস্ত ক্ষতিপূরণ” বিভাগে দেখা যাচ্ছে যে, ফেসবুক জুকারবার্গের বাসভবনে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং তার এবং তার পরিবারের ভ্রমণের জন্য ২৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। সিইও নিরাপত্তা কর্মী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত ১০ মিলিয়ন ডলার পেয়েছেন। বেস সিকিউরিটির খরচ গত বছর ১৩.৪ মিলিয়ন ডলার ছিল।

প্রক্সি বিবৃতি অনুসারে, “ক্ষতিপূরণ, প্রশাসন এবং মনোনীত কমিটি বিশ্বাস করে যে, হুমকির দৃশ্যপটের আলোকে এই ব্যয়গুলি যথাযথ এবং প্রয়োজনীয়। মিঃ জুকারবার্গ বার্ষিক বেতন মাত্র ১ ডলার পাওয়ার অনুরোধ করেছেন এবং কোনও বোনাস, ইক্যুইটি পুরষ্কার বা অন্যান্য প্রণোদনা ক্ষতিপূরণ তিনি নেবেন না।”

এছাড়াও শুক্রবার দায়ের করা প্রক্সি বিবৃতিতে, ফেসবুক বলেছে যে তারা তার ২৬ মে ২০২০ এর শেয়ারহোল্ডার সভায় একটি প্রস্তাব পেশ করবে যাতে সময়ে সময়ে অ-কর্মচারী পরিচালকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রদান করা হয়।

প্রক্সি বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের কোম্পানি এবং আমাদের নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালকদের উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের আলোকে ফেসবুক জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে কিছু অ-কর্মচারী পরিচালকের জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সেবা অনুমোদন করেছে। সেইসাথে ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচন এবং ৬ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে মার্কিন ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর এধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্টের জানুয়ারী মাসের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, ক্যাপিটল হামলায় কিছু চরমপন্থী দাঙ্গাকারী কয়েক মাস ধরে ফেসবুকে ব্যক্তিগত দলগুলোকে ব্যবহার করে ৬ জানুয়ারির ২০২১ বিদ্রোহের পরিকল্পনা এবং সমন্বয় সাধন করেছে।

যদিও ফেসবুকের সিইও শেরিল স্যান্ডবার্গ মন্তব্য করেছেন যে “এই ঘটনাগুলো মূলত এমন প্ল্যাটফর্মে সংগঠিত হয়েছিল যেখানে ঘৃণা বন্ধ করার ক্ষমতা, মানদন্ড এবং স্বচ্ছতা নেই।”

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন