ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ এপ্রিল ২০২৫, ১৯ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশের জেলা উপোজেলা পর্যায়ে দৈনিক স্বতঃকণ্ঠে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে । আগ্রহী প্রার্থীগন জীবন বৃত্তান্ত ইমেইল করুন shatakantha.info@gmail.com // দৈনিক স্বতঃকণ্ঠ অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন ০১৭১১-৩৩৩৮১১, ০১৭৪৪-১২৪৮১৪

ঈশ্বরদীর পদ্মায় মাছের আকাল- করুণ অবস্থা জেলেদের

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত সময় ০৩:৩৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুন ২০২১
  • / 116

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতাঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে বহমান পদ্মায় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। হার্ডিঞ্জ সেতু পয়েন্ট, উজানে ও ভাটিতে প্রতিদিনই জেলেরা দিন-রাত নদীতে নৌকা ও জাল নিয়ে চষে বেড়ালেও মাছের দেখা মিলছে না।

পদ্মা তীরবর্তী পাকশী ইউনিয়নের গুড়িপাড়া, সাঁড়া ও লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের জেলেপাড়ার জেলেদের সাথে কথা বলে তাদের দুর্বিষহ জীবনের তথ্য জানা গেছে। মাছ না পাওয়ায় ঈশ্বরদীর জেলে পরিবারগুলো মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

গুড়িপাড়ার জেলেদের সরদার অসিত বলেন, প্রতিদিনই নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছে। কোনোদিন কেউ দুয়েকটা পায়, আবার পায়ও না। দুই বছর আগেও এই অবস্থা ছিলো না। মাছ ধরে ভালোভাবেই সংসার চলত। এখন মাছের অভাবে এলাকার জেলেদের না খেয়ে মরার অবস্থা। মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা গুড়িপাড়ার ৬০ ঘর আদিবাসী পরিবারের একই অবস্থা বলে জানান তিনি। এখন দুবেলা খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজ না জানায় বেকার জীবন যাপন করছেন এলাকার জেলেরা।

গুড়িপাড়ার অশোক সাহানি বলেন, সারারাত নদীতে পড়ে থেকে কেউ এক পোয়া, কেউবা আধাকেজি মাছ নিয়ে বাড়ি ফেরেন সকালে। এই মাছ বেচে সংসারের অন্য খরচ চলে না।

ঈশ্বরদী মাছ বাজারের আড়তদার আব্দুল আজিজ বলেন, জেলেরা সারাদিন মাছ ধরে সন্ধ্যার পর হতে রাত ১০ পর্যন্ত আগে মাছ নিয়ে আসত। আগে পদ্মায় বাঁচা, চিংড়ি, গাঙগারি, বাঁশপাতা, পিয়ালি, কাগচি মাছ সহ হরেক রকম মাছের এসময়ে আমদানি হতো। রাতের মাছ পাবনা-সিরাজগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকায় রাতেই চালান হতো। আবার রাতে ধরা মাছ সকালে আড়তে আমদানির পর স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজারে পাইকারি বিক্রি হয়ে যেত। এখন রাত জেগে বসে থাকলে কোন কোন দিন ১০-২০ কেজি মাছ আমদানি হয়। আবার হয়ও না।

অসহায় জেলে পরিবারের ভাতার বিষয়ে পাকশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস বলেন, এখনও সকল বয়স্ক এসব আদিবাসী নারী-পুরুষ ও বিধবা নারীর ভাতার ব্যবস্থা করা যায়নি। পর্যায়ক্রমে তালিকাভুক্ত করা হবে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, আমাদের কাছে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার বা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে যেসব আবেদন বা নাম আসে, তাদের ভাতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুনঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে গাঁজা সহ ০২ জন র্শীষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ঈশ্বরদীর পদ্মায় মাছের আকাল- করুণ অবস্থা জেলেদের

প্রকাশিত সময় ০৩:৩৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুন ২০২১

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতাঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে বহমান পদ্মায় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। হার্ডিঞ্জ সেতু পয়েন্ট, উজানে ও ভাটিতে প্রতিদিনই জেলেরা দিন-রাত নদীতে নৌকা ও জাল নিয়ে চষে বেড়ালেও মাছের দেখা মিলছে না।

পদ্মা তীরবর্তী পাকশী ইউনিয়নের গুড়িপাড়া, সাঁড়া ও লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের জেলেপাড়ার জেলেদের সাথে কথা বলে তাদের দুর্বিষহ জীবনের তথ্য জানা গেছে। মাছ না পাওয়ায় ঈশ্বরদীর জেলে পরিবারগুলো মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

গুড়িপাড়ার জেলেদের সরদার অসিত বলেন, প্রতিদিনই নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছে। কোনোদিন কেউ দুয়েকটা পায়, আবার পায়ও না। দুই বছর আগেও এই অবস্থা ছিলো না। মাছ ধরে ভালোভাবেই সংসার চলত। এখন মাছের অভাবে এলাকার জেলেদের না খেয়ে মরার অবস্থা। মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা গুড়িপাড়ার ৬০ ঘর আদিবাসী পরিবারের একই অবস্থা বলে জানান তিনি। এখন দুবেলা খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজ না জানায় বেকার জীবন যাপন করছেন এলাকার জেলেরা।

গুড়িপাড়ার অশোক সাহানি বলেন, সারারাত নদীতে পড়ে থেকে কেউ এক পোয়া, কেউবা আধাকেজি মাছ নিয়ে বাড়ি ফেরেন সকালে। এই মাছ বেচে সংসারের অন্য খরচ চলে না।

ঈশ্বরদী মাছ বাজারের আড়তদার আব্দুল আজিজ বলেন, জেলেরা সারাদিন মাছ ধরে সন্ধ্যার পর হতে রাত ১০ পর্যন্ত আগে মাছ নিয়ে আসত। আগে পদ্মায় বাঁচা, চিংড়ি, গাঙগারি, বাঁশপাতা, পিয়ালি, কাগচি মাছ সহ হরেক রকম মাছের এসময়ে আমদানি হতো। রাতের মাছ পাবনা-সিরাজগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকায় রাতেই চালান হতো। আবার রাতে ধরা মাছ সকালে আড়তে আমদানির পর স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজারে পাইকারি বিক্রি হয়ে যেত। এখন রাত জেগে বসে থাকলে কোন কোন দিন ১০-২০ কেজি মাছ আমদানি হয়। আবার হয়ও না।

অসহায় জেলে পরিবারের ভাতার বিষয়ে পাকশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস বলেন, এখনও সকল বয়স্ক এসব আদিবাসী নারী-পুরুষ ও বিধবা নারীর ভাতার ব্যবস্থা করা যায়নি। পর্যায়ক্রমে তালিকাভুক্ত করা হবে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, আমাদের কাছে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার বা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে যেসব আবেদন বা নাম আসে, তাদের ভাতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুনঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে গাঁজা সহ ০২ জন র্শীষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার