তৃণমূলে জনচাহিদা
ঈশ্বরদীতে রেলওয়ে ফ্লাইওভার চাই

- প্রকাশিত সময় ০৭:১৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২
- / 325
১৯১৫ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণের পরপরই ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন উত্তরাঞ্চল রেলের সূতিকাগার হয়ে ওঠে।
ব্রিটিশ আমলে আসাম মেইল, দার্জিলিং মেইলসহ অনেক ট্রেন ঈশ্বরদী হয়ে চলাচল করত। ২০২১ সালে এসে এ জংশনে অন্তত ৩৮টি ট্রেন আপ-ডাউন করে। ভারত থেকে মালবাহী ট্রেনও আসে ঈশ্বরদী রেল ইয়ার্ডে।
দুর্ঘটনা এড়াতে খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি ট্রেন আসা-যাওয়ার আগেই রেলগেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ট্রেন ক্রসিং পার করতে ৫ থেকে ১০ মিনিটের বেশি সময় লাগে না। অথচ এ সময়েই সড়কের দু’প্রান্তে এক থেকে দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
এরপর রেলগেট খোলার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় অদ্ভুত ছোটাছুটি। হঠাৎ দেখলে মনে হবে-হয়তো আগুন লেগেছে, তা নেভাতে এপারের মানুষ ওপারে এবং ওপারের মানুষ এপারে যেতে-আসতে চাইছে; অথবা ঘটে গেছে বড় কোনো দুর্ঘটনা!
উল্লেখ্য, রেলগেটের পশ্চিমে ডান পাশ দিয়ে যে রাস্তাটি লালপুর, বাঘা, চারঘাট হয়ে বানেশ্বর বিশ্বরোড ধরে রাজশাহী মহানগরীতে ঢুকেছে; তার মাঝামাঝি রাস্তাটি ‘উপজেলা রোড’ নামে পরিচিত। সড়কটি পদ্মার তীরে সাড়াঘাট নামক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ রক্ষাবাঁধের কাছে গিয়ে শেষ হয়েছে। ফলে বিস্তীর্ণ বালুমহালের জন্য ড্রামট্রাক, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের ব্যস্ততম রাস্তায় পরিণত হয়েছে এটি।
আর রেলগেটের পশ্চিম পাশের শেষ দক্ষিণের রাস্তাটি রেললাইনের পাশ দিয়ে গোপালপুর-পাকশী ইপিজেড হয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশ দিয়ে লালনশাহ সেতু হয়ে কুষ্টিয়ার পথে গেছে। অর্থাৎ দক্ষিণ-পশ্চিমে মেহেরপুর জেলা, মাঝপথ দিয়ে ঝিনাহদহ যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া শহরের পশ্চিম দক্ষিণে রাজবাড়ী অর্থাৎ গ্রেটার ফরিদপুর, বরিশাল রোড।
পাকশী ইপিজেড পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিংহভাগ শ্রমিক বাঘা, লালপুর আর ঈশ্বরদীর উত্তরের জনপদ থেকে গিয়ে বসবাস করেন। পারমাণবিক কেন্দ্রের রাশিয়ান নাগরিকরা বেশিরভাগই ঈশ্বরদী শহর থেকে পাকশী রূপপুরে যাতায়াত করে থাকে। এ অবস্থায় ঈশ্বরদী রেলগেট যুগের চাহিদা মেটাতে পারত, তা বলাই বাহুল্য।
বর্তমান সরকারপ্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ রেলগেট দিয়ে লালপুর, বাঘা, চারঘাট, রাজশাহী হয়ে পাবনাতে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে জনস্বার্থে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প প্রতিমাসে একনেকে অনুমোদন হচ্ছে। তাই ঈশ্বরদী রেলগেট ফ্লাইওভার প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হলে এবং তা প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করলে পাবনা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, ঈশ্বরদীসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ হাঁফ ছেড়ে বাঁচতেন। এটি মানুষের মনে দাগ কেটে থাকত।
শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজনীতিতে যুক্ত থাকায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান বিশ্বাসের সঙ্গে। একান্ত আলাপচারিতায় ফ্লাইওভারের কথা তুলেছিলাম। সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ নেওয়ার পরপরই রেলমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আলাপ করেছেন বলেও জানালেন। জানি না সেই প্রক্রিয়া এখন কতদূর! এটি বছর দেড়েক আগের কথা। এই সময়ের মধ্যে সাংসদ মহোদয় কয়েকটি জনসভায় ঈশ্বরদী রেলওয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ অচিরেই শুরু হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন আর সেসব কথা কোনও তরফেই শোনা যায় না। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে অফিসের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফ্লাইওভার নির্মাণের ব্যাপারে তাদের কাছে কোনও তথ্য নেই।
উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খ্যাত ঈশ্বরদী; যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আছে বলে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে দেশের সর্ববৃহৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। তাই এ জনপদের সময়ের চাহিদা ঈশ্বরদী রেলওয়ে ফ্লাইওভার নির্মিত হওয়া এখন খুবই জরুরি।
– আকরাম হোসেন খান
লেখক ও রাজনীতিক